আটকদের মধ্যে একজন ভারতীয় সেনার জওয়ানও রয়েছেন বলে জানা গেছে। মণিপুর পুলিশ পুরো ঘটনাকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বলেই বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।

মণিপুরে আবারও কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ
শেষ আপডেট: 11 March 2026 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে (Manipur news) আবারও কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, উখরুল জেলার লিতান থানার আওতাধীন উখরুল–ইম্ফল সড়কে কুকি স্বেচ্ছাসেবকরা ২০ জনকে আটক (Manipur Hostage) করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় সেনার জওয়ানও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার জেরে রাজ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মণিপুর পুলিশ পুরো ঘটনাকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বলেই বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইয়নাম খেমচাঁদ সিং এদিন একটি বিবৃতিতে আটক সকলের নিরাপদ ও নিঃশর্ত মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন আটক করা হল?
কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটির (CoTU) দাবি, এই পদক্ষেপ আসলে তাদের প্রতিশোধ। তাদের অভিযোগ, নাগা জঙ্গি সংগঠন NSCN-IM-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি উখরুল জেলার থাওয়াই কুকি গ্রামে কৃষিকাজ করা কুকি কৃষকদের উপর বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে।
CoTU-র মুখপাত্র লুন কিংপিনের দাবি, ওই হামলার সময় গ্রাম রক্ষায় কুকি স্বেচ্ছাসেবকরা পাল্টা প্রতিরোধ করেন। পরে দুই কুকি স্বেচ্ছাসেবককে অপহরণ করা হয়, যাদের একজন পালাতে সক্ষম হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের লোকদের মুক্তির দাবিতে কুকি স্বেচ্ছাসেবকরা কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে সেখানে থাকা কিছু মানুষকে আটক করে বলে অভিযোগ।
মণিপুর পুলিশের এক আধিকারিক অবশ্য কুকি সংগঠনের অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন, এটি আসলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা। তাঁর কথায়, কয়েকজন কুকি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তিনটি গাড়ি থামিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।
তিনি জানান, বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে।
NSCN-IM একটি নাগা জঙ্গি সংগঠন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ‘নাগালিম’ নামে বৃহত্তর নাগা ভূখণ্ডের দাবি করে আসছে। এই ভূখণ্ডে নাগাল্যান্ড ছাড়াও মণিপুর, অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রয়েছে।
২০১৫ সালে এই সংগঠনটি কেন্দ্রের সঙ্গে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছিল দীর্ঘদিনের সংঘাত মেটানোর লক্ষ্যে।
তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার ফলে মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।