মণিপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন দিগন্ত খুলল। কুকি-জো (Meiteis and Kukis) সংগঠনগুলির সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নতুন চুক্তি সই হল বৃহস্পতিবার।

মণিপুর ন্যাশনাল হাইওয়ে
শেষ আপডেট: 4 September 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন দিগন্ত খুলল। কুকি-জো (Meiteis and Kukis) সংগঠনগুলির সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নতুন চুক্তি সই হল বৃহস্পতিবার। এই চুক্তির মূল অঙ্গ ন্যাশনাল হাইওয়ে-২ (National Highway) আবার খুলে দেওয়া। এর ফলে যাত্রী চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে আর কোনও বাধা থাকবে না। শান্তি রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে কুকি-জো কাউন্সিল (KZC)।
এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য মণিপুর সফরের প্রাক্কালে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মে, ২০২৩-এ মণিপুরে (Manipur) মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম রাজ্যে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)।
মণিপুরে অশান্তির সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে। পাহাড়ি উপজাতি সংগঠনগুলি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে, যখন হাইকোর্ট মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়। তার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রাজ্য। গত এক বছরে প্রায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন— যার মধ্যে কুকি ও মেইতেই উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়াও ছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরাও। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তুলনামূলক শান্তি বজায় রয়েছে।
নতুন চুক্তিতে Suspension of Operations (SoO) অর্থাৎ অস্ত্রবিরতি চুক্তির শর্তাবলিও সংশোধন করা হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এই সংশোধিত নিয়মাবলি। চুক্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার উপর।
কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (KNO) এবং ইউনাইটেড পিপল’স ফ্রন্ট (UPF) সম্মত হয়েছে, তাদের সাতটি শিবির সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট শিবিরের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং অস্ত্রসম্ভার স্থানান্তরিত হবে নিকটবর্তী সিআরপিএফ বা বিএসএফ ক্যাম্পে।
নিরাপত্তা বাহিনী কড়া শারীরিক যাচাই চালাবে, যাতে বিদেশি নাগরিক যুক্ত থাকলে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া যায়।
এসব শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি (Joint Monitoring Group) গঠন করা হয়েছে। চুক্তিভঙ্গ হলে পর্যালোচনা করা হবে অস্ত্রবিরতি চুক্তি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কুকিদের এই পদক্ষেপ মণিপুরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নেবে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে খাদ্য ও ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহণে স্বস্তি ফিরতে পারে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হতে পারে।