মহম্মদ গুলফাম ফরিদাবাদ থেকে কাজ সেরে ফিরছিলেন। তখনই ওই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। তিনি জানান, অনেকেই যখন ভিডিও করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি নিজের ভ্যান থামিয়ে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।

মহম্মদ গুলফাম
শেষ আপডেট: 17 September 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত রবিবার দিল্লিতে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনা (Delhi BMW Crash) ঘটেছিল। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৫২ বছর বয়সি নভজ্যোত সিংয়ের (Navjot Singh) যিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি ছিলেন। তাঁর সঙ্গেই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন স্ত্রীও। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছিলেন এক ভ্যানচালক (Van Driver) যুবক। তিনিই এবার ফাঁপরে পড়েছেন।
দিল্লির ওই ঘটনায় আহতদের নিজের ভ্যানে করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন মহম্মদ গুলফাম নামের ওই যুবক। কিন্তু এরপরই তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটল যা প্রকাশ্যে আসতেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। গুলফামের অভিযোগ, পুলিশ তাঁর গাড়িটি তদন্তের জন্য বাজেয়াপ্ত (Seize) করেছে, যার কারণে তিনি রোজগার (Income) হারিয়েছেন। যদিও দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।
সুলতানপুরীর বাসিন্দা মহম্মদ গুলফাম ফরিদাবাদ থেকে কাজ সেরে ফিরছিলেন। তখনই ওই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি (Accident) দেখতে পান। তিনি জানান, অনেকেই যখন ভিডিও করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি নিজের ভ্যান থামিয়ে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
গুলফাম জানিয়েছেন, "আহতদের ওই অবস্থায় দেখে আমি সময় নষ্ট না করেই আমার গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করি। সেখানে একটি অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু আমি দ্রুত তাদের আমার ভ্যানে তুলে নিই, যাতে সময় মতো চিকিৎসা পায়।" তবে তাঁর অভিযোগ, "রবিবার থেকে আমার গাড়িটি তদন্তের অংশ হিসেবে একটি থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ কর্মীরা আমার গাড়ি থেকে নমুনা নিচ্ছেন, আর প্রতিবারই বলছেন, দু-এক দিনের মধ্যে ছেড়ে দেবেন। আমাকে নিয়মিত থানাতেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে।"
রোজ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা রোজগার করা ওই ভ্যান চালক জানান, যেহেতু গাড়িটি পুলিশের কাছে আছে, তাই তাঁর রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গুলফাম বলেন, "এটাই আমার একমাত্র রোজগারের পথ। আমি ভাড়া বাড়িতে থাকি এবং আমার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে। আমার পরিবারও খুবই চিন্তায় আছে।" যদিও এত প্রতিকূলতার পরেও, তিনি আহতদের সাহায্য করে কোনও অনুশোচনা করছেন না।
গুলফামের কথায়, "আমি শুধু জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম। তারা খুব খারাপভাবে আহত হয়েছিল এবং দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার ছিল। সেই মুহূর্তে আমার আর কিছুই মনে হয়নি।"
এদিকে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত গগনপ্রীত কৌর আদালতে জামিন চেয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। বুধবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তিনি দাবি করেন, “যদি কোনও মহিলার নাম এরকম ঘটনায় উঠে আসে, তাহলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা সংক্রান্ত মামলাতেও জামিন দেওয়া যায়।”
গত রবিবার ধৌলা কুয়ানের কাছে কৌরের বিএমডব্লিউ বাইকটিকে ধাক্কা মেরেছিল। সোমবার গগনপ্রীত কৌরকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে হেফাজতে পাঠানো হয়। এই মামলায় গগনপ্রীত কৌরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (বিএনএসের ১০৫ ধারা), ২৮১ (বেপরোয়া গাড়ি চালানো) এবং ১২৫বি (অন্যের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করা)-র অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর গগনপ্রীত আহতদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জানা যায়, ওই হাসপাতালের মালিকানায় তাঁর বাবারও অংশ রয়েছে। এর ফলে পুলিশ সন্দেহ করছে, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা।