ছেলেকে ওইভাবে আটকে পড়তে দেখে পা কাঁপতে শুরু করেছিল ঋষির। হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি বেড়ে গেছিল কয়েকগুণ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 May 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালেই স্বামীর দীর্ঘ জীবনের কামনা করে প্রার্থনা করেছিলেন স্ত্রী। আর রাতেই হল তাঁর মৃত্যু! ভোপালের আবাসনের (Bhopal Apartment) এই পরিবারে যা ঘটল তার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। মাত্র ৩ মাস আগেই হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) ওই ব্যক্তির বাবাকে কেড়ে নিয়েছিল। সেই একই কারণে মৃত্যু হল তাঁরও। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল সেই ঘটনা আরও মর্মান্তিক।
৫১ বছরের ঋষিরাজ ভাটনাগর শুধুমাত্র একজন 'ফ্যামিলি ম্যান' ছিলেন না। আবাসনে তাঁর সুনামও ছিল নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে। তাঁর মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবে গোটা আবাসন জুড়ে শোকের ছায়া। আর তাঁর স্ত্রী পারুল তো শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কিন্তু কীভাবে এমন ঘটনা ঘটে গেল রাতারাতি? হৃদয়বিদারক এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে লোডশেডিং (Power Cut) এবং আবাসনের লিফট (Elevator)!
রাত তখন ১০টা। ৮ বছরের ছেলের সঙ্গে আবাসনে ঢুকেছিলেন ঋষিরাজ। লিফট করেই তাঁরা ফ্ল্যাটে যেতেন। তবে কিছু কাজ মনে পড়ায় ছেলে দেবাংশকে আগে উঠে যেতে বলেন লিফট করে। বাইরে তখন প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় দেবাংশ লিফট ওঠার পর দরজা বন্ধ হতেই চলে যায় কারেন্ট। লিফটের ঘন অন্ধকারে আটকা পড়ে যায় ছোট ছেলেটি। মুহূর্তে মধ্যে চিৎকার করতে শুরু করে, 'বাবা, বাবা... বাঁচাও'। সেই চিৎকার শুনে কার্যত পাগল হওয়ার উপক্রম ছিল ঋষিরাজের।
ছেলেকে ওইভাবে আটকে পড়তে দেখে পা কাঁপতে শুরু করেছিল ঋষির। হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি বেড়ে গেছিল কয়েকগুণ। চিৎকার করে সাহায্য চাইতে চাইতেই তিনি দৌড় লাগিয়েছিলেন জেনারেটর রুমের দিকে। কোনও ভাবে যদি লিফট চালু করা যায়। বেশ কয়েকবার ছেলের চিন্তায় ওঠা-নামা করতে হয়েছিল ঋষিরাজকে। তবে দেবাংশের সাহায্যের দরকার পড়েনি। কারণ ৩ মিনিটের মধ্যেই কারেন্ট আসে এবং লিফট চালু হয়। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে।
৮ বছরের ছেলেটি লিফটের বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে বাবা মাটিয়ে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আবাসনের বাকিদের ডাকে সে। তাঁরা ঋষিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, ভয়েতে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। ঘটনাস্থলেই মারা গেছিলেন ঋষিরাজ। অর্থাৎ ছেলের মৃত্যু ভয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাবা।
আবাসনের এক বাসিন্দা জানান, ''ও পাগলের মতো দৌড়চ্ছিল। জেনারেটর চালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তা চালু না হওয়ায় ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিল। প্যানিক অ্যাটাক থেকেই এমনটা হয়ে গেল...'' অন্য একজনের কথায়, সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল ঋষিরাজকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। কিছুই করা যায়নি। সকলেই বলছেন, ৩ মিনিটের লোডশেডিং একটা পরিবারকে শেষ করে দিল। ঋষি যদি ভয় না পেয়ে একটু ধৈর্য রাখতেন...