জোর করে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। সেই খবর শুনে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রেমিক। কিন্তু হামিরপুরের গ্রামবাসীদের গণপিটুনিতে মৃত্যু হল তাঁর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে প্রেমিকাকে দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি এক যুবকের। বিয়ের আগের দিন প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছনোর পর গ্রামবাসীদের হাতে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল তাঁর। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হামিরপুর জেলায়।
মৃত যুবকের নাম রবি, বয়স ৩৫। প্রেমিকার নাম মনীষা, বয়স ১৮। জানা গেছে, জোর করে মনীষার বিয়ে ঠিক করে দিয়েছিল পরিবার। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান রবি। ধরা পড়ে যান পরিবারের লোকজনের হাতে।
প্রথমে পরিবারের লোকজন রবিকে ধরে মারধর শুরু করেন। অভিযোগ, গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গ্রামবাসীরাও এতে যোগ দেন। গুরুতর জখম অবস্থায় রবি যখন জল চেয়েছিলেন, তখনও তাঁকে এক ফোঁটা জল দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে বুঝে মনীষার কাকা পিন্টু (৩৫) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবি ও পিন্টুকে মৌদাহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা সেখানে রবিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় পিন্টুকে পাঠানো হয় জেলা হাসপাতালে।
অন্যদিকে, প্রেমিকের মৃত্যুর খবর শুনে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মনীষাও। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে মৌদাহা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে।তবে রবির পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেয়ের পরিবার। তাঁদের দাবি, রবিই নাকি প্রথমে পিন্টুর উপর হামলা চালায়।
মনীষার ঠাকুমা বলেন, ‘আমি মৌদাহায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি রবি এসেছেন। মেয়েটি চিৎকার করতেই ও পিন্টুকে ছুরি মারেন।’ তাঁর দাবি, ‘এর আগেও ওই লোকটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলেন। তখন থেকেই ওঁর মধ্যে রাগ জমেছিল।’
মনীষার কাকিমা অর্থাৎ পিন্টুর স্ত্রী জানান, রবি দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন। দরজা খুলতেই ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
হামিরপুরের পুলিশ সুপার দীক্ষা শর্মা জানিয়েছেন, দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদের জেরে এক জনের মৃত্যু হয়েছে, আরও দু’জন গুরুতর অসুস্থ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।