অমৃতার পরিবার জানিয়েছে, অনেক আগেই তাঁরা যে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন সেটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আদালতে। তাই এই ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চান না।

অমৃতা চৌহান এবং রামকেশ মীনা
শেষ আপডেট: 28 October 2025 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে (New Delhi) নিজের লিভ-ইন পার্টনারকে (Live-in Partner) খুনের দায়ে অভিযুক্ত তরুণী অমৃতা চৌহানকে (Amrita Chauhan) অনেক আগেই ত্যাজ্য করেছিল পরিবার (Disowned by Family)! ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৮ জুলাই, ২০২৪-এ অমৃতার বাবা-মা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে মেয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনের কপি ইতিমধ্যে আদালতে নথি হিসেবে জমা পড়েছে।
মোরাদাবাদের ২১ বছরের ওই তরুণী সম্প্রতি জানতে পারেন যে, লিভ-ইন পার্টনার গোপনে তাঁর একাধিক অশ্লীল ভিডিও (Obscene Video) রেকর্ড করে হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে ভিডিওগুলি মুছে ফেলতে রাজি হননি। অপমান ও ক্ষোভে তিনি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনের পরিকল্পনা করেন। কল ডিটেইল রেকর্ড ও টেকনিক্যাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আর তারপরই তদন্তে নতুন মোড়।

অমৃতার পরিবার জানিয়েছে, অনেক আগেই তাঁরা যে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন সেটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আদালতে। তাই এই ঘটনার বিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চান না। অন্যদিকে অমৃতা অপরাধের কথা স্বীকার করে নেওয়ায় পুলিশের কাজ আরও বেশি সহজ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ অক্টোবর রাতে মোট তিনজন দিল্লির গান্ধী বিহারের ওই ফ্ল্যাটে ঢোকে যেখানে প্রেমিক রামকেশ মীনা (Ram Kesh Meena)র সঙ্গে লিভ-ইন করছিলেন অমৃতা। তারপর প্রথমে যুবককে গলায় কিছু পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে শরীরে তেল, ঘি ও অ্যালকোহল ঢেলে আগুন ধরানো হয়। এরপর গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটর খুলে লাইটার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ দেহ পুড়ে যায়। পুলিশ জেনেছে, তরুণীর সঙ্গে সে সময় ছিলেন প্রাক্তন প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ (Sumit Kashyap) ও তাঁর বন্ধু সন্দীপ কুমার (Sandeep Kumar)।
তদন্তে উঠে এসেছে, তরুণী বিএসসি ফরেন্সিক সায়েন্সের (Forensic Science) ছাত্রী ছিলেন। সেই শিক্ষার জ্ঞান ব্যবহার করেই তিনি এমনভাবে খুনের পরিকল্পনা করেন যাতে তা পুলিশের কাছে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে হয়। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর, ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত জ্ঞানও কাজে লাগে। পুলিশ বলছে, তরুণী শুধু ফরেন্সিক বিজ্ঞানের ছাত্রীই ছিলেন না, অপরাধবিষয়ক সিরিজ ও ক্রাইম শো-তেও তাঁর আগ্রহ ছিল। সে জানত কীভাবে তদন্ত বিভ্রান্ত করা যায়। তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে।