তরুণী বিএসসি ফরেন্সিক সায়েন্সের ছাত্রী ছিলেন। সেই শিক্ষার জ্ঞান ব্যবহার করেই তিনি এমনভাবে খুনের পরিকল্পনা করেন যাতে তা পুলিশের কাছে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 October 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এটি দুর্ঘটনা (Accident)। কিন্তু তিন সপ্তাহের তদন্তে উঠে এসেছে এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় খুন (Murder)। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, ফরেন্সিকের (Forensic) জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তা গবেষণার কাজে নয়, নিজের লিভ-ইন পার্টনারকে (Live-in Partner) হত্যা করার ছক কষতে ব্যবহার করেছে তরুণী। দিল্লির (Delhi) তিমারপুরের এই ভয়াবহ ঘটনা চমকে দিয়েছে সকলকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোরাদাবাদের ২১ বছরের ওই তরুণী সম্প্রতি জানতে পারেন যে, লিভ-ইন পার্টনার গোপনে তাঁর একাধিক অশ্লীল ভিডিও (Obscene Video) রেকর্ড করে হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে ভিডিওগুলি মুছে ফেলতে রাজি হননি। অপমান ও ক্ষোভে তিনি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনের পরিকল্পনা করেন।
ইতিমধ্যে তদন্তে উঠে এসেছে, তরুণী বিএসসি ফরেন্সিক সায়েন্সের (Forensic Science) ছাত্রী ছিলেন। সেই শিক্ষার জ্ঞান ব্যবহার করেই তিনি এমনভাবে খুনের পরিকল্পনা করেন যাতে তা পুলিশের কাছে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে হয়। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর, ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত জ্ঞানও কাজে লাগে।
গত ৫ অক্টোবর রাতে মোট তিনজন দিল্লির গান্ধী বিহারের ওই ফ্ল্যাটে ঢোকে। এরপর প্রথমে যুবককে গলায় কিছু পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে শরীরে তেল, ঘি ও অ্যালকোহল ঢেলে আগুন ধরানো হয়। এরপর গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটর খুলে লাইটার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ দেহ পুড়ে যায়।
প্রথমে মনে করা হয়েছিল, আগুন লাগার ঘটনায় ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আগুন লাগার আগে তিনজন ফ্ল্যাটে ঢুকেছে এবং এক মহিলা কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে যাচ্ছেন। সেই মহিলাকে শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি মৃতের লিভ-ইন পার্টনার।
এরপর কল ডিটেইল রেকর্ড ও টেকনিক্যাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আরও দুই অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৮ অক্টোবর গ্রেফতার হন ওই তরুণী, ২১ অক্টোবর তার প্রাক্তন প্রেমিক এবং ২৩ অক্টোবর তৃতীয় সহযোগী।
তদন্তে পুলিশ উদ্ধার করেছে অশ্লীল ভিডিও সম্বলিত হার্ড ডিস্ক, একটি ট্রলি ব্যাগ, মৃতের জামা, এবং অপরাধের সময় ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন।
পুলিশ বলছে, তরুণী শুধু ফরেন্সিক বিজ্ঞানের ছাত্রীই ছিলেন না, অপরাধবিষয়ক সিরিজ ও ক্রাইম শো-তেও তাঁর আগ্রহ ছিল। সে জানত কীভাবে তদন্ত বিভ্রান্ত করা যায়। তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে।
মৃত যুবক রামকেশ মীনা (Ram Kesh Meena), বয়স ৩২। তিনি কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর লিভ- ইন পার্টনার অমৃতা চৌহান (Amrita Chauhan) প্রাক্তন প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ (Sumit Kashyap) ও তাঁর বন্ধু সন্দীপ কুমার (Sandeep Kumar)-এর সঙ্গে মিলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।