প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এটি দুর্ঘটনা। কিন্তু তিন সপ্তাহের তদন্তে উঠে এসেছে এক ঠান্ডা মাথার খুনের ষড়যন্ত্র।

বাঁদিকে মৃত যুবক আর ডানদিকে ওই প্রেমিকা
শেষ আপডেট: 27 October 2025 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির (Delhi) তিমারপুরে (Timarpur) আগুনে পুড়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধার এক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী (Civil Services Aspirant)। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এটি দুর্ঘটনা। কিন্তু তিন সপ্তাহের তদন্তে উঠে এসেছে এক ঠান্ডা মাথার খুনের ষড়যন্ত্র। প্রেমিকা, প্রাক্তন প্রেমিক ও এক বন্ধুর পরিকল্পনায় গোটা খুনটি হয়। কারণ, প্রেমিক ব্যক্তিগত ভিডিও (Private Video) মুছতে রাজি হননি।
ঘটনাটি ৬ অক্টোবরের। উত্তর দিল্লির গান্ধী বিহার এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণের দগ্ধ দেহ। পরে শনাক্ত করা হয়, মৃত যুবক রামকেশ মীনা (Ram Kesh Meena), বয়স ৩২। তিনি কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের সন্দেহে মামলা দায়ের হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজেই মেলে প্রথম সূত্র। দেখা যায়, আগের রাতেই দু’জন মুখ ঢাকা ব্যক্তি ঢুকছে তাঁর বাড়িতে। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসেন এক যুবক ও এক তরুণী। আগুন লাগে তাঁদের বেরনোর পরই। পুলিশ ওই তরুণীকে শনাক্ত করে, অমৃতা চৌহান (Amrita Chauhan), মৃতের লিভ-ইন পার্টনার। তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থানও ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটের কাছেই পাওয়া যায়। এরপর খুনের মামলা রুজু হয়।
ঘটনার পর অমৃতা ফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করে। ১৮ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে দুই সহযোগীর নাম, প্রাক্তন প্রেমিক সুমিত কাশ্যপ (Sumit Kashyap) ও বন্ধু সন্দীপ কুমার (Sandeep Kumar)। দু’জনকেই পরবর্তী কয়েক দিনে ধরা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে রামকেশ ও অমৃতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। সেই সময় রামকেশ গোপনে অমৃতার ব্যক্তিগত ভিডিও রেকর্ড করে রাখেন হার্ড ডিস্কে (Hard Disk)। বিষয়টি জানতে পেরে অমৃতা তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু রামকেশ তা অস্বীকার করেন। এরপর অমৃতা বিষয়টি জানান প্রাক্তন প্রেমিক সুমিতকে, এবং দু’জন মিলে পরিকল্পনা করেন হত্যার।
সুমিত রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের কাজে যুক্ত। গ্যাস লিক ও বিস্ফোরণ নিয়ে ভাল রয়েছে তাঁর। অপরদিকে, অমৃতা ফরেনসিক সায়েন্সের (Forensic Science) ছাত্রী এবং অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজে আগ্রহী। দু’জনে মিলে এমনভাবে পরিকল্পনা করেন যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনার মতো দেখায়।
৫ অক্টোবর রাতে সুমিত ও সন্দীপ ফ্ল্যাটে গিয়ে রামকেশকে বেধড়ক মারধরের পর শ্বাসরোধ করে খুন করেন।দেহের উপর তেল, ঘি ও ওয়াইন ঢেলে আগুন লাগানোর বন্দোবস্ত করা হয়। রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে মৃতদেহের পাশে রেখে ভাল্ভ খুলে দেন তাঁরা। রামকেশের দুই ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে যান সঙ্গে। সব শেষে লাইটার জ্বালিয়ে দরজা বন্ধ করে এলাকা ছাড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়।
আগুনে অনেক প্রমাণ নষ্ট হলেও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে অভিযুক্তদের উপস্থিতি। পুলিশ পরে উদ্ধার করেছে হত্যার কারণ হয়ে ওঠা হার্ড ডিস্ক ও চুরি যাওয়া সামগ্রী। দুই অভিযুক্তের মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনজন এখন পুলিশের হেফাজতে। তদন্তকারীদের মতে, ‘পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, কিন্তু প্রযুক্তির চাপে ছাড়া পেলেন না।’