খুনের পর আত্মহত্যার গল্প সাজিয়ে তদন্তকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 October 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে (Shyampukur) গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় (Shyampukur woman death) নয়া মোড়। তাহলে কি স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সন্দেহ, তা থেকেই খুন! প্রথমে পুলিশের ধারণা হয়েছিল, এটি আত্মহত্যা (suicide)। কিন্তু রবিবার রাতে মৃতার স্বামী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ (husband surrenders after killing wife) করায় নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম পূজা পুরকায়েত। গত শনিবার পূজাকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় এক বেসরকারি নার্সিং হোমে নিয়ে যান তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শরীরে একাধিক আঁচড় ও চিহ্ন দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে শ্যামপুকুর থানাকে খবর দেন।
তদন্তে পুলিশ গৃহবধূর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উদ্ধার করে পূজার স্বামীর হাতে লেখা একটি নোট। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি ‘সুইসাইড নোট’, যাতে লেখা ছিল, “আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” নোটের ভাষা দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ জাগে। ঠিক সেই সময় থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাঁর স্বামী সুমিত পুরকাইত। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পরে নিশ্চিত হয় যে, পূজাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
রবিবার রাতে অবশেষে সুমিত নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনিও আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ‘সুইসাইড নোট’ তিনিই লিখেছিলেন, কারণ স্ত্রী-সহ আত্মঘাতী হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
সূত্রের খবর, স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতেন পূজার স্বামী। সেই সন্দেহ থেকেই তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন বলে অনুমান তদন্তকারীদের। তবে খুনের পর আত্মহত্যার গল্প সাজিয়ে তদন্তকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত খুন কি না এবং পরিবারের অন্য কেউ ঘটনাটিতে জড়িত কি না।
পাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূজা শান্ত স্বভাবের মহিলা ছিলেন। দাম্পত্য কলহের কোনও বিষয় তাঁরা কখনও বুঝতে পারেননি। তাঁদের কথায়, “এমন ভয়ংকর ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনও হয়নি।”
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “ময়নাতদন্তে স্পষ্ট, মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ। আমরা উদ্ধার করা নোটের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছি। অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে।”