দিল্লিকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। তারা দিল্লি পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছে এবং আক্রান্ত ছাত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 28 October 2025 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Delhi University) এক ছাত্রীর উপর অ্যাসিড হামলার (Acid Attack) অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছিল চাঞ্চল্য। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে বেরিয়ে এল চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনাটাই সাজানো নাটক। ওই ছাত্রী নিজেই টয়লেট ক্লিনার ঢেলেছিলেন নিজের হাতে— আর এর নেপথ্যে ছিলেন তাঁরই বাবা। শেষ পর্যন্ত সেই বাবাকেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা। যিনি সেই ব্যক্তির কারখানায় কাজ করতেন। ওই মহিলাই আবার তাঁদের অভিযুক্ত করার নাটকের মূল কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার, দিল্লির লক্ষ্মীবাই কলেজের বাইরে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অফ ওপেন লার্নিং’-এর ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তিনজন যুবক বাইকে চেপে এসে তাঁর উপর অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়। তিনি এক প্রতিবেশী যুবক এবং তার দুই বন্ধু ইশান ও আরমানের নামও জানান পুলিশের কাছে।
কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ওই সময় অভিযোগে নাম থাকা যুবকের মোবাইলের ‘লোকেশন ডেটা’, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান— সবই দেখাচ্ছে তিনি অন্যত্র ছিলেন। বিশেষ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) রবীন্দর যাদব জানান, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এর পর তদন্ত ঘুরে যায় অন্যদিকে। জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রীর বাবার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযুক্তের স্ত্রীর অভিযোগ রয়েছে যৌন হেনস্থা এবং ব্ল্যাকমেলের। অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিলা ওই ব্যক্তির মোজার কারখানায় কাজ করতেন, তখনই তিনি শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন এবং গোপনে ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করেন।
অন্যদিকে, ছাত্রীর অভিযোগে নাম থাকা ইশান ও আরমানেরও অবস্থান ছিল দিল্লির বাইরে। তাঁরা আগ্রায় ছিলেন, জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এঁরা ছাত্রীর আত্মীয়।
এমনকি জানা যায়, ইশান ও আরমানের মা-ও নাকি ২০১৮ সালে অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই হামলার নেপথ্যেও ছিল ছাত্রীর পরিবার। দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিবাদ আদালতে চলছে।
দিল্লিকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। তারা দিল্লি পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছে এবং আক্রান্ত ছাত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মহিলা কমিশনের বক্তব্য, 'অ্যাসিড হামলা নারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নৃশংস অপরাধগুলির মধ্যে একটি। এমন ঘটনায় কোনও ছাড় দেওয়া উচিত নয়, অপরাধীদের কড়া শাস্তি দিতে হবে।"