আক্রান্ত তরুণীর অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্যক্ত করছিল। তিনি যেখানেই যেতেন ওই যুবক অনুসরণ করতেন। রবিবার সকালে কলেজে যাওয়ার সময় দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলে তরুণীর পথ আটকায় মূল অভিযুক্ত।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 27 October 2025 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনায় নয়া মোড় (Delhi acid attack case)! আক্রান্ত তরুণীর বয়ানেই সন্দেহ বাড়ছে পুলিশের। তদন্তে নেমে তাদের হাতে এমন কোনও তথ্য আসেনি, যা এই নৃশংস হামলার ঘটনাকে প্রমাণ করতে পারে।
পুলিশ সূত্রে যানা গেছে, রবিবার সকালে ২০ বছর বয়সী তরুণী কলেজর গেট থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে রিকশা থেকে নামেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, সেখানেই হামলা হয়েছিল। কিন্তু কেন হঠাৎ কলেজের এত আগে নেমেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকেও অ্যাসিডের কোনও চিহ্ন মেলেনি বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
আক্রান্ত তরুণীর অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্যক্ত করছিল। তিনি যেখানেই যেতেন ওই যুবক অনুসরণ করত। রবিবার সকালে কলেজে যাওয়ার সময় দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলে তরুণীর পথ আটকায় মূল অভিযুক্ত। কথা কাটাকাটির মধ্যেই তাঁর দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারে (Delhi college student)। হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে দুই হাতের অনেকটাই অ্যাসিডে পুড়ে যায়।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ (Delhi police investigation)। মূল অভিযুক্ত জিতেন্দ্র মুকুন্দপুরের বাসিন্দা, এছাড়াও রয়েছে তার বন্ধু ঈশান এবং আরমান। তবে তিনজনেই এখন পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পরই অভিযুক্ত ঈশানের স্ত্রী তরুণীর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তির কারখানায় কাজ করতেন, সেইসময় অশ্লীল আচরণ করতেন এমনকি গোপন ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করতেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। শীঘ্রই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে।
এখন পুলিশ দুটি অভিযোগই একসঙ্গে তদন্ত করছে। একদিকে অ্যাসিড হামলার মামলা, অন্যদিকে যৌন হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ।
দিল্লিকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। তারা দিল্লি পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছে এবং আক্রান্ত ছাত্রীকে যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মহিলা কমিশনের বক্তব্য, 'অ্যাসিড হামলা নারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নৃশংস অপরাধগুলির মধ্যে একটি। এমন ঘটনায় কোনও ছাড় দেওয়া উচিত নয়, অপরাধীদের কড়া শাস্তি দিতে হবে।"