বৃহস্পতিবার রাতে সাতারার জেলা হাসপাতালেই নিজের জীবন শেষ করেন ওই চিকিৎসক। এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মৃতার এক আত্মীয়ও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের (Maharastra) সাতারা জেলার এক মহিলা চিকিৎসক (Woman Doctor) আত্মহত্যা করে অভিযুক্ত করে গেছেন ফালতন থানার এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরকে। অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে ওই পুলিশকর্মী তাঁকে চারবার ধর্ষণ (Rape) ও শারীরিক নির্যাতন (Physical Assault) করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাতারার জেলা হাসপাতালেই নিজের জীবন শেষ করেন ওই চিকিৎসক। এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মৃতার এক আত্মীয়ও।
মৃত চিকিৎসক ফালতন সাব-ডিভিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার (Medical Doctor) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর এক আত্মীয়র কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কর্তাদের চাপে তাঁকে জাল মেডিক্যাল (Medical) ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (Postmortem Report) তৈরি করতে বাধ্য করা হত। এমনকী হাসপাতালে রোগী উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের ‘ফিটনেস রিপোর্ট’ বানাতে হত তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ, এই দুর্নীতিতে সায় না দেওয়াতেই তাঁর ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন।
গত ১৯ জুন মৃতা ফালতনের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP)-এর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে তিনি তিনজন পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করে যৌন হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ জানান। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন এসআই গোপাল বাদনে, সাব-ডিভিশনাল পুলিশ ইন্সপেক্টর পাতিল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর লাডপুত্রে। কিন্তু অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলেই দাবি পরিবার ও সহকর্মীদের।
চিকিৎসক নিজেকে শেষ করার আগে বাঁ হাতের তালুতে লিখে গেছেন - আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ ইন্সপেক্টর (Police Inspector) গোপাল বাদনে। তিনি আমাকে চারবার ধর্ষণ করেছেন। পাঁচ মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছেন।
এই মর্মান্তিক লেখাই প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশের নৃশংসতা। অভিযুক্ত এসআই গোপাল বাদনেকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের (Devendra Fadnavis) নির্দেশে এসআই বাদনেকে আপাতত বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজায় উত্তাল মহারাষ্ট্র। ইতিমধ্যে চিকিৎসকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারি হয়নি, তবে অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি জারি আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটির পর মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশনও হস্তক্ষেপ করেছে। কমিশনের তরফে সাতারার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সম্পূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য কংগ্রেস (Congress) প্রশ্ন তুলেছে, “যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কীভাবে?” তাদের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার পুলিশদের আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেই এমন নির্যাতন বাড়ছে।
অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে। সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে, এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।