চিঠিতে চিকিৎসক লিখেছিলেন, তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে রয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

হাতে লেখা নোট, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার
শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রক্ষকই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে তখন নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে আতঙ্ক বাড়বেই তা স্পষ্ট। আর এমন পরিস্থিতির বলিষ্ঠ উদাহরণ রাখল মহারাষ্ট্রের (Maharastra) ঘটনা। সেখানে এক মহিলা চিকিৎসক (Woman Doctor) আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন এবং এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছেন এক পুলিশ অফিসার (Police Officer)।
মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার এক মহিলা চিকিৎসক আত্মহত্যা করে অভিযুক্ত করে গেছেন ফালতন থানার এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরকে। অভিযোগ, গত পাঁচ মাস ধরে ওই পুলিশকর্মী তাঁকে চারবার ধর্ষণ (Rape) ও শারীরিক নির্যাতন (Physical Assault) করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাতারার জেলা হাসপাতালেই নিজের জীবন শেষ করেন ওই চিকিৎসক।
চিকিৎসকের বাঁ হাতের তালুতে লেখা ছিল - আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ ইন্সপেক্টর (Police Inspector) গোপাল বাদনে। তিনি আমাকে চারবার ধর্ষণ করেছেন। পাঁচ মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছেন। এই মর্মান্তিক লেখাই প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশের নৃশংসতা। অভিযুক্ত এসআই গোপাল বাদনেকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৃত চিকিৎসক ফালতন সাব-ডিভিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে, গত ১৯ জুন তিনি ফালতনের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (DSP)-এর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি তিনজন পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করে যৌন হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ জানান। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন এসআই গোপাল বাদনে, সাব-ডিভিশনাল পুলিশ ইন্সপেক্টর পাতিল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর লাডপুত্রে।
চিঠিতে চিকিৎসক লিখেছিলেন, তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে রয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলেই দাবি পরিবার ও সহকর্মীদের।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের (Devendra Fadnavis) নির্দেশে এসআই বাদনেকে আপাতত বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজায় উত্তাল মহারাষ্ট্র।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য কংগ্রেস (Congress) প্রশ্ন তুলেছে, “যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কীভাবে?” তাদের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার পুলিশদের আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেই এমন নির্যাতন বাড়ছে।
অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে। সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে, এফআইআর নথিভুক্ত হচ্ছে। এও জানান হয়েছে, চিকিৎসক আগেও যে অভিযোগ করেছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত হবে। কোনও মহিলা যেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত না নেন, তার জন্য সরকার সবরকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ঘটনাটির পর মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশনও হস্তক্ষেপ করেছে। কমিশনের তরফে সাতারার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সম্পূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে। কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, “চিকিৎসক আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তবুও কেন তাঁকে সাহায্য করা হয়নি?”
ইতিমধ্যে চিকিৎসকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারি হয়নি, তবে অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি জারি আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।