বিশেষভাবে সক্ষম বাচ্চাদের শিক্ষক, ওই মহিলার অভিযোগ, নিরঞ্জন শোভাযাত্রা যাওয়ায় তাঁরা তিনজনই গেটের সামনে তা দেখছিলেন দাঁড়িয়ে। একটা বাজি তাঁর পায়ের কাছে এসে পড়ে এবং বিকট শব্দে ফেটে যায়। তখন তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ জানান বলে এতকিছু।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর নিরঞ্জনে পাড়ার 'দাদাদের' গুণ্ডামির শিকার এক মহিলা ও তাঁর পরিবার। বাড়ির সামনে শব্দবাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করায় 'দেখে' নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, করা হয় শ্লীলতাহানিও। জমজমাট এলাকায় এমন ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী। আতঙ্ক ছড়িয়েছে গড়িয়া চত্বরে।
বৃহস্পতিবার কালীপুজোর নিরঞ্জন ছিল শহরের বেশ কিছু এলাকায়। গড়িয়ার লক্ষ্মীনারায়ণ কলোনিতে রাতের দিকে একটি ঠাকুর নিয়ে নিরঞ্জন শোভাযাত্রা করছিলেন পাশের পাড়ার লোকজন। সেই সময় অভিযোগকারিণী ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান সেরে ফ্ল্যাটের নীচে এসেছিলেন অতিথিদের ছাড়তে, সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী ও ১৪ বছরের ছেলে।
বিশেষভাবে সক্ষম বাচ্চাদের শিক্ষক, ওই মহিলার অভিযোগ, নিরঞ্জন শোভাযাত্রা যাওয়ায় তাঁরা তিনজনই গেটের সামনে তা দেখছিলেন দাঁড়িয়ে। হঠাৎ একটা বাজি তাঁর পায়ের কাছে এসে পড়ে এবং বিকট শব্দে ফেটে যায়। তখন তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ জানান এবং নিষেধ করে বলেন, 'বাচ্চারা আছে, এভাবে কে বাজি ফাটায়।'
তারপরই শুরু হয় তাণ্ডব। মহিলাকে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়, মুখে ঘুঁষি মেরে ঠোঁট ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বাচ্চার সামনেই তাঁকে লাথি, থাপ্পর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ চলতে থাকে। এখানেই শেষ নয়, এরপর মহিলার স্বামী ও ছেলেকেও মারতে যায় বলে অভিযোগ। কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে ফ্ল্যাটের গেটে তালা মেরে তাঁরা তিনজন ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনতলায় (তাঁরা ওই ফ্লোরেই থাকেন) ওঠার আগেই ওই মত্ত যুবকরা কোলাপসিবল গেট ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে। সিঁড়িতেই মহিলার শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
ওই দুষ্কৃতীরা এরপর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং ধর্ষণের হুমকিও বাদ যায় না। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এলে মহিলা ঘরে ঢুকে বসতে গেলে বাইরে শুরু হয় আরেক তাণ্ডব। ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে জলের বোতল, শব্দ বাজি, ইট বৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে দেখে ১০০ ডায়াল করে পুলিশ ডাকেন এবং পুলিশ এলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওই দলটি।
এই মহিলা এরপর রাতের দিকে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে মেডিক্যাল পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয় কিন্তু ও দলটি সেখানেও পৌঁছে যায় এবং পুলিশের সামনেই পরীক্ষা না করার হুমকি দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্মীকে। পাশাপাশি মহিলা ও তাঁর স্বামীকে বলা হয়, 'এবার দেখব কীভাবে পাড়ায় থাকিস। বেরলে ঠ্যাৎ ভেঙে দেব।'
ভয় পেয়ে সেখান থেকে শেষে বাঙুরে গিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষা করান তিনি। বর্তমানে মুখে চোখে কালসিটে, ঠোট ফাটা, হাঁটার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই মহিলার।
এনিয়ে শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তরফে আর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বা কিছু জানানোও হয়নি।