পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন কল্পনা জানান তিনি ওই বাড়িতে আর থাকবেন না। নিজের ‘স্ত্রীধন’ অর্থাৎ যা কিছু তিনি বিয়ের সময় বা পরে পেয়েছেন, সেগুলি ফেরত চান।

মহারাষ্ট্রে খুন তরুণী
শেষ আপডেট: 29 December 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'স্ত্রীধন' ফেরত চাইতেই এক মহিলাকে নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও ননদের বিরুদ্ধে (Stridhan dispute murder)। শনিবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে (Maharashtra murder case)। মৃতার নাম কল্পনা সোনি (৩৫)। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে মহেশ সোনির সঙ্গে বিয়ে হয় কল্পনার। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মহেশ ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত (Dowry harassment case)। প্রায়ই তাঁকে মারধর করা হত বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। অনুমান, দাম্পত্যে অশান্তি বাড়তে বাড়তে শনিবার তা বিরাট আকার নেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন কল্পনা জানান তিনি ওই বাড়িতে আর থাকবেন না। নিজের ‘স্ত্রীধন’ অর্থাৎ যা কিছু তিনি বিয়ের সময় বা পরে পেয়েছেন, সেগুলি ফেরত চান। এই দাবি করা মাত্রই মহেশ (৩৮) এবং তাঁর বোন দীপালি সোনি প্রচণ্ড রেগে যান।
তদন্তে জানা গেছে, রাগের মাথায় দু’জনে মিলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কল্পনার মাথায় আঘাত করেন (Maharashtra murder case)। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জেরায় অভিযুক্তরা পুলিশকে জানায়, কল্পনা বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হয়, এটি দুর্ঘটনা নয়, বারবার ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ফলেই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বয়ানে অসঙ্গতি পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। কল্পনা ও মহেশের সাত বছরের একটি কন্যা আছে, তবে ঘটনার সময় সে বাড়িতে ছিল না।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মহেশ ও দীপালিকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত তাঁদের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিয়ের দু'মাস কাটতে না কাটতেই মর্মান্তিক পরিণতি বেঙ্গালুরুর দম্পতির। গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) বাড়িতে আত্মঘাতী হন সুরজের স্ত্রী গণভী। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণীর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অভিযোগ করে, সুরজ ও তাঁর পরিবার গণভীকে পণের জন্য মানসিক নির্যাতন করতেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বেঙ্গালুরু পুলিশ সুরজের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করে।
গত ২৯ অক্টোবর সুরজ ও গণভীর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর দম্পতি শ্রীলঙ্কায় হানিমুনে যান। জানা যায়, সেখানে গিয়েই তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। ফলে মাঝপথেই তাঁরা বেঙ্গালুরু ফিরে আসেন। তারপর গণভীকে তাঁর পরিবারের সদস্যরাই বাড়িতে নিয়ে যান।
গণভীর পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে অপমান ও হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছিল। মানসিক চাপে পড়েই মঙ্গলবার গণভী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন (Newlywed Couple Dies By Suicide)। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে ব্রেন-ডেড ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
তরুণীর মৃত্যুর পরই তাঁর পরিবার সুরজের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় এবং মৃতার স্বামীকে গ্রেফতারের দাবি তোলে। ক্রমাগত চাপ ও বিতর্কের মুখে পড়ে সুরজ ও তাঁর মা জয়ন্তী শহর ছেড়ে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে চলে যান।
শনিবার নাগপুরের একটি হোটেল থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মা-ও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।