গোয়ার ভয়াবহ ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ অগ্নিকাণ্ডে জড়িত লুথরা ব্রাদার্স পাসপোর্ট বাতিলের পর থাইল্যান্ডে আটক। ইন্টারপোলের নোটিসের পর শুরু হল তল্লাশি। হসপিটালিটি দুনিয়ায় তাঁদের যাত্রা শুরু হয়েছিল কোথা থেকে?

লুথরা ব্রাদার্স
শেষ আপডেট: 11 December 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার আরপোরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (fire) ২৫ জনের মৃত্যুর পরে তদন্তে নেমে যে সব প্রাথমিক তথ্য উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে তৎপর হল ইন্টারপোল (Interpol)। পাসপোর্ট বাতিলের পরপরই থাইল্যান্ডে সৌরভ লুথরা ও গৌরব লুথরাকে আটক করেছে সেখানকার পুলিশ (custody)। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নাইটক্লাবের মালিক এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই লুক আউট সার্কুলার (LOC–Look Out Circular) জারি করেছিল গোয়া পুলিশ। ইন্টারপোল এরপর ব্লু কর্নার নোটিস (Blue Corner Notice) জারি করে আন্তর্জাতিক নজরদারি শুরু করে।
তদন্তকারীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের দিন ৬ ডিসেম্বর যখন দমকলকর্মীরা (fire brigade) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই লুথরা ভাইরা দিল্লি থেকে থাইল্যান্ড পালানোর টিকিট কেটে ফেলেন। ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী, তারা সকাল ৫.৩০-এ দিল্লি থেকে রওনা হওয়া ইন্ডিগো (IndiGo) বিমানের ফ্লাইট 6E 1073-এ চেপে পৌঁছন ফুকেত। গোয়া সরকারের অনুরোধে MEA তাদের পাসপোর্ট বাতিল করতেই বিদেশে তাদের গতিবিধির উপর নজরদারি জোরদার হয়।
এদিকে, দিল্লির এক আদালত বুধবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা (interim protection) দিতে অস্বীকার করে। ফলে দেশে ফিরে এলে লুথরা ভাইদের গ্রেফতার হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
কারা এই লুথরা ব্রাদার্স?
হাডসন লেনের ‘মামাস বুয়োই’ রেস্তরাঁ দিয়ে তাঁদের যাত্রা শুরু। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় সেই ক্যাজুয়াল ইটারি। সেখান থেকেই আসে বড় ব্র্যান্ড, ‘রোমিও লেন’। দিল্লির সিভিল লাইন্সে শুরু হওয়া রোমিও লেন দ্রুত জনপ্রিয় হয়, পরে গোয়ার ভগতরেও নতুন শাখা খোলে। করোনা পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের ঢল নামতেই ব্র্যান্ডটি আরও বিস্তার পায়।
ক্রমে তাঁরা নতুন নতুন উদ্যোগ Birch by Romeo Lane, Caha নিয়ে আসেন বাজারে। বর্তমানে তাঁদের ব্র্যান্ডের ২৫টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে সারা দেশে। শুধু দেশ নয়, বিদেশেও ব্যবসা বিস্তার করেছেন তাঁরা। দুবাইতে কয়েকটি আউটলেট ইতিমধ্যেই চালু, আরও প্রায় দু’ডজন শাখা তৈরির কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডে কী হয়েছিল?
গোয়ার আরপোরার ‘Birch by Romeo Lane’-এ ভয়াবহ আগুনে ২০ জন কর্মী ও ৫ জন পর্যটক প্রাণ হারান। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সম্ভবত ফায়ারওয়ার্কস (fireworks) থেকেই আগুন ছড়ায়। আহত হন ছ’জন।
দমকল সূত্রের দাবি, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে দম নিতে না পেরে (suffocation)। কারণ মানুষজন আটকে পড়েছিলেন গ্রাউন্ড ফ্লোরে। ক্লাবের ছোট দরজা ও সরু অ্যাকসেস ব্রিজ পালানোর পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে রেসকিউ অপারেশন (rescue operation)–ও বাধাপ্রাপ্ত হয়। দমকলের গাড়ি ও ওয়াটার ট্যাঙ্কার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে রাখতে হয়েছিল। যার ফলে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকার্যে সময় কিছুটা বেশি লাগে।