গোয়ার আরপোরার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ আগুনে ২৫ জনের মৃত্যু। ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরা ফুকেট পালিয়ে যান।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 9 December 2025 23:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার আরপোরা গ্রামে 'বার্চ বাই রোমিও লেন' (Birch by Romeo Lane) নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যুর পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাবটির মালিক, দিল্লি-ভিত্তিক ব্যবসায়ী সৌরভ লুথরা এবং তাঁর ভাই গৌরব লুথরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
গোয়া পুলিশ রবিবার রাত ১২টা ৪ মিনিটে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের খবর পায়। অর্থাৎ শনিবার রাতের ভিড়ে যখন ক্লাবটি ভর্তি ছিল, তখনই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এদিকে, ক্লাবটির মালিক লুথরা ভাইয়েরা খবর পেয়ে যান। এরপর তাঁরা রবিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই দিল্লি থেকে থাইল্যান্ডের ফুকেটগামী একটি বিমানে চড়ে বসেন।
গোয়া পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, তারা ইন্ডিগো (IndiGo 6E 1073) বিমান ধরে ৭ ডিসেম্বর রবিবার ভোরে ভারত ছাড়েন। বিমান ট্র্যাকার্স অনুসারে, এই বিমানটি রবিবার সকাল ১১টার পরই ফুকেটে অবতরণ করে। সোমবার পুলিশ লুথরা ভাইদের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছালেও তাঁদের খুঁজে পায়নি। গোয়া পুলিশ পরে এক বিবৃতিতে জানায় যে অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই পালিয়ে গেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় বুরো অফ ইমিগ্রেশন (BoI)-এর মাধ্যমে লুথরা ভাইদের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিশ জারি করা হলেও, ততক্ষণে তাঁরা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
গোয়া পুলিশের উপ-পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (DSP) নিলেশ রানে জানান, "মুম্বইয়ে বুরো অফ ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং দেখা যায় যে দুই অভিযুক্তই ৭ ডিসেম্বর ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ৬ই ১০৭৩ (নয়াদিল্লি থেকে ফুকেট) বিমানে করে চলে গেছেন, অর্থাৎ মধ্যরাতে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দেশ ছাড়েন। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তাঁরা পুলিশের তদন্ত এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন।"
এদিকে, এই ঘটনার দিন সৌরভ লুথরা তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শোক প্রকাশ করে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, "বার্চে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার ফলে জীবনহানির মর্মান্তিক ঘটনায় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং গভীরভাবে মর্মাহত।" তিনি নিহতদের পরিবারকে "যথাসম্ভব সব উপায়ে" সহায়তা করার প্রস্তাবও দেন।
ভারতীয় সংস্থাগুলো এখন সৌরভ ও গৌরব লুথরাকে খুঁজে বের করতে থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) লুথরা ভাইদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ব্লু নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে তাঁরা থাইল্যান্ড থেকেও আরও কোথাও পালাতে না পারেন।
জানা গেছে, গোয়ার একটি আদালত থেকে লুথরাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই পরোয়ানা বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মাধ্যমে থাইল্যান্ডে পাঠানো হবে, যাতে ফুকেটে তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করা যায়।
ভারত এবং থাই সংস্থাগুলোর মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে কর্মকর্তারা আশা করছেন, লুথরাদের শীঘ্রই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে CBI-এর প্রচেষ্টায় ২০০ জনেরও বেশি পলাতক অপরাধীকে বিদেশ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১৩৬ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা লুথরা বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা সাম্প্রতিককালে বিদেশে কোনও অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে কিনা, বা থাইল্যান্ডে তাঁদের কোনও বিনিয়োগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন।