সংস্থার সিইও-র আরও বক্তব্য, যে যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাদের ‘নো কোয়েশ্চনস আস্কড’ নীতি অনুযায়ী পুরো টিকিটমূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।

পিটার আলবার্স
শেষ আপডেট: 9 December 2025 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে টানা কয়েক দিন বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের (Flight Cancelled) ধাক্কা সামলে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে ইন্ডিগো (Indigo)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থার সিইও পিটার আলবার্স (Pieter Elbers) জানান, অপারেশন এখন স্থিতিশীল এবং সংস্থার পরিষেবা ধীরে ধীরে আগের গতিতে ফিরে এসছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য ফের একবার ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
ইন্ডিগো বিপর্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt) ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্রের খবর, দৈনিক অন্তত ৫ শতাংশ উড়ান, অর্থাৎ প্রায় ১১৫টি ফ্লাইট ইন্ডিগোর (Indigo News) কাছ থেকে প্রত্যাহার করতে পারে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (Indigo Flight News)। তবে এই আবহেই আলবার্স বলেন, “আমাদের তরফেই পরিষেবায বিঘ্ন ঘটেছিল - তার দায় স্বীকার করছি। কিন্তু এখন ইন্ডিগো আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আপনাদের ধৈর্য ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ।”
আলবার্স জানান, গত ৫ ডিসেম্বর মাত্র ৭০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পেরেছিল ইন্ডিগো। কিন্তু পরের দিন থেকেই সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। কতটা, সেই পরিসংখ্যাও দিয়েছেন তিনি -
৬ ডিসেম্বর: ১,৫০০
৭ ডিসেম্বর: ১,৬৫০
৮ ডিসেম্বর: ১,৮০০-এর বেশি
বর্তমানে: প্রতিদিন ১,৮০০-র বেশি ফ্লাইট
তাঁর দাবি, বর্তমানে নেটওয়ার্কের ১৩৮টি গন্তব্যেই পরিষেবা আবার স্বাভাবিক। অন-টাইম পারফরম্যান্সও আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
সংস্থার সিইও-র আরও বক্তব্য, যে যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাদের ‘নো কোয়েশ্চনস আস্কড’ নীতি অনুযায়ী পুরো টিকিটমূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এয়ারপোর্টে আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়তা, থাকাখাওয়া এবং ব্যাগেজ ফেরত দেওয়ার কাজও চলছে।
এদিকে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কিশোর চন্দ্র রম্মোহন নাইডু সংসদে জানিয়েছেন, যে কোনও বড় সংস্থাই হোক - যাত্রী দুর্ভোগ বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপত্তা ও নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
ডিজিসিএ ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্তাদের শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, তদন্তে যা উঠে আসবে, তার ভিত্তিতে বিমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিসিএর নতুন ফ্যাটিগ ম্যানেজমেন্ট নীতি কার্যকর হওয়ার সময় ইন্ডিগো পূর্ণ সহযোগিতা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ রোস্টারিংয়ে ব্যাপক গলদ ধরা পড়ে। তার ফলেই হাজারো যাত্রী বিপাকে পড়েন, দাবি মন্ত্রকের।
বস্তুত, ইন্ডিগো বিমান বাতিলের (IndiGo Crisis) ঘটনার পরই বদলে গিয়েছে অনেককিছু। হাজার হাজার যাত্রীর সমস্যা ও ব্যস্ত রুটে টিকিটের দাম বৃদ্ধির পরই বিমানযাত্রীদের সমস্যায় টিকিটের দাম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিমান চলাচল খাতে ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে সরকার। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবার ডমেস্টিক ফ্লাইটের ওপর জরুরি ভাড়ার সীমা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) নিয়ম বাস্তবায়নের পর ইন্ডিগো বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২৩০০টি উড়ান পরিচালনা করে ইন্ডিগো। কিন্তু গত সাতদিন ধরে তাদের পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ে। সব মিলিয়ে যাত্রীরা পড়েন চরম সমস্যায়।