গোয়ার আরপোরা গ্রামের নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর পর দেশ ছেড়ে পালায় লুথরা ব্রাদার্স। থাইল্যান্ড থেকে তাঁদের এবার আটক করা হল।

লুথরা ব্রাদার্স
শেষ আপডেট: 11 December 2025 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিক তথা দিল্লির রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী সৌরভ ও গৌরব লুথরাকে (culpable homicide) আটক করা হল থাইল্যান্ডে। শনিবার গভীর রাতে আগুন লেগে যায় তাঁদের গোয়ার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ ক্লাবে। মৃত্যু বয় ২৫ জনের। আধ পোড়া দেহ যখন উদ্ধারে ব্যস্ত পুলিশ ও উদ্ধাকারীরা, ঠিক সেই সময় দেশ ছেড়ে ভয়ে থাইল্যান্ড পালান এই দুই ভাই।
তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা (negligence) ও অপরাধমূলক হত্যার দায় (culpable homicide not amounting to murder) মামলা চলবে বলে জানিয়েছে গোয়া পুলিশ।
ঘটনার দিন রাতে ক্লাবটিতে চলছিল মিউজিক্যাল নাইট। প্রায় ১০০ জন পর্যটক ও কর্মী (tourists, staff) উপস্থিত ছিলেন। লাইভ পারফরম্যান্স চলাকালীন ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ‘ফায়ারক্র্যাকার’ থেকে আগুন লাগে। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে কারণ গোটা ক্লাবজুড়ে ছিল দাহ্য পদার্থ। আর কোনও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (fire extinguisher) বা সেফটি অ্যালার্ম (safety alarm) বাজেনি ফলে আগুন লাগার বিষয়টি টের পেতে সকলের অনেকটা সময় লেগে যায়। কেউ চট করে তাই এলাকা থেকে বেরতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানান, ঢোকার রাস্তা সরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। পালাতে গিয়ে অনেকেই এদিক ওদিক চলে যান। ফলে দম বন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। আর দমকলও উদ্ধারকাজ খুব সহজে শুরু করতে পারেনি। ৪০০ মিটার দূরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কাজ শুরু করতে হয়।
আগুন নেভাতে নেভাতে যখন দমকল কর্মীরা ভেতরে ঢোকেন, তখন ২৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়, ৫ জন পর্যটক, বাকি ২০ জন কর্মী। বেশিরভাগই মারা গিয়েছেন বিষাক্ত ধোঁয়ায় (toxic smoke) শ্বাস নেওয়ার ফলে, তাঁদের দেহ মিলেছে বেসমেন্ট থেকে, যেখানে রান্নাঘর ছিল।
ঘটনার পরই ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়। খোঁজ শুরু হয় মালিকদের। প্রথমে তাঁরা প্রতিক্রিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন কিন্তু কিছুতেই তাঁদের নাগালে পাচ্ছিলেন না তদন্তকারীরা। পরে জানা যায়, তাঁরা শনিবার রাতেই পালিয়েছেন থাইল্যান্ড। ইন্টারপোলের সাহায্যে তাঁদের হাতে পাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।
এদিকে, তাঁদের পাসপোর্ট সাসপেন্ড (passport suspension) করে গোয়া পুলিশ। বিদেশ মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট সাসপেন্ড হলে সেই নথি অকার্যকর হয়ে যায় এবং বিদেশযাত্রা সম্ভব নয়। তারপরই বৃহস্পতিবার তাঁদের আটক করা হয়। কীভাবে তাঁদের আনা হবে দেশে, সেবিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি।
এদিকে ওই নাইটক্লাবের কো-ওনার অজয় গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয় দিল্লি থেকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশকে তিনি জানান, স্লিপিং পার্টনার তিনি। কিছুই জানেন না কোনও বিষয়ে।