মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে খবর, ইন্টারপোল (Interpol) ইতিমধ্যেই ব্লু কর্নার নোটিস (Blue Corner Notice) জারি করেছে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 December 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার অরপেরায় ভয়াবহ আগুনে (Birch by Romeo Lane fire tragedy) ২৫ জনের মৃত্যু, তার পর থেকেই নিখোঁজ নাইটক্লাবের মালিক দুই ভাই। থাইল্যান্ডে (Thailand) পালিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এক ভাইয়ের ছবি। এবার তাঁদের দ্বিতীয় ক্লাবও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত জানাল গোয়া সরকার (Goa Government)। মঙ্গলবার দুপুরে সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বিবৃতিতে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওন্ত জানান, লুথরা ভাইদের (Luthra brothers) মালিকানাধীন একটি বিচ শ্যাক (Beach shack) ভেঙে ফেলা হবে।
এদিকে, ‘রোমিও লেন’ নামে আরেকটি রেস্টুরেন্ট/ক্লাব, যেটি গোয়ার ভাগাটরে সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ, সেটি আগেই সিল করে দিয়েছিল প্রশাসন (Romeo Lane demolition)।
আগুনের দুর্ঘটনার পরই থাইল্যান্ড পালালেন গৌরব ও সৌরভ
লুথরা ভাই, গৌরব ও সৌরভ, দুর্ঘটনাগ্রস্থ ওই ক্লাবের মালিক। গত সপ্তাহে আগুন লেগে প্রাণ হারান ২৫ জন। তার মাত্র তিন ঘণ্টা পর তাঁরা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে চড়ে দেশ ছাড়েন।
তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে culpable homicide (not amounting to murder) এবং criminal conspiracy-র মামলা। তবুও এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি তাঁরা, এমনটাই জানিয়েছে এনডিটিভি।
এনডিটিভি ইতিমধ্যেই গৌরব লুথরার একটি ছবি সংগ্রহ করেছে থাইল্যান্ডের এক বিমানবন্দর থেকে। তদন্ত শুরুর পরই পুলিশের সন্দেহ হয় যে তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
দিল্লির বাড়িতে পৌঁছলে পুলিশ জানতে পারে, দুই ভাই আগেই দেশত্যাগ করেছেন। তাঁরা ইন্ডিগোর (IndiGo)-র ফ্লাইট ধরে ফুকেতে চলে গিয়েছেন, যা পুলিশের মতে, স্পষ্টতই আইন এড়ানোর চেষ্টা।
ইন্টারপোল জারি করল Blue Corner Notice
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে খবর, ইন্টারপোল (Interpol) ইতিমধ্যেই ব্লু কর্নার নোটিস (Blue Corner Notice) জারি করেছে। এই নোটিসের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশকে কোনো সন্দেহভাজনের অবস্থান, চলাফেরা, ও কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়।
লুথরা ভাইদের উত্থান
২০১৬ সালে দিল্লির সিভিল লাইনে ‘Mama’s Buoi’ নামের প্রথম নাইটক্লাব দিয়ে শুরু হয় সৌরভ ও গৌরব লুথরার ব্যবসায়িক যাত্রা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসের কাছেই অবস্থিত হওয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা পায় জায়গাটি, বিশেষত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।
সেই সাফল্যের পর আসে ‘Dramebaaz’, একটি ফাস্ট–ফুড জয়েন্ট। এরপর ‘Romeo Lane’—একটি নাইটক্লাব চেইন, যা দিল্লির পার্টি-সংস্কৃতিতে তাঁদের নাম পরিচিত করে তোলে।
অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা গোয়ায় খুলে ফেলেন ‘Birch by Romeo Lane’। ইনস্টাগ্রামে যেটিকে বর্ণনা করা হয়েছিল গোয়ার প্রথম “island club” হিসেবে।
দুর্যোগের পূর্বাভাস ছিল আগেই
আগুন লাগার আগে তোলা ছবিগুলোতে দেখা যায় ক্লাবজুড়ে বাঁশের সাজসজ্জা, এমনকি সিলিংয়েও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল। যার ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। আরও ভয়াবহ, ক্লাবটি ছিল একটি ছোট লেকের মাঝখানে নির্মিত, যেখানে যাওয়ার ছিল মাত্র একটি সরু পথ। এই পথই ছিল ক্লাবে একমাত্র ঢোকা এবং বেরনোর রাস্তা।
ফলে আগুন লাগার পর দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পারেনি। ফায়ার ইঞ্জিনগুলোকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে থামতে হয়। এতে উদ্ধারকাজ ভীষণভাবে ব্যাহত হয়, এবং প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে,
* ক্লাবটির কোনও ফায়ার সেফটি ক্লিয়ারেন্স ছিল না
* কার্যকর ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল না
* সেফটি অ্যালার্মও কাজ করছিল না
* অথচ বড় ইভেন্টে ১০০-র বেশি লোক যেত সেই জায়গায়