শনিবার গভীর রাতে ক্লাবে আগুন লাগে। ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বটে, কিন্তু মালিকপক্ষ তখন আর দেশে নেই। ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ইন্ডিগোর ফ্লাইট ধরেন দুই ভাই।

শেষ আপডেট: 8 December 2025 23:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার বাৰ্চ বাই রোমিও লেন নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে (Goa nightclub fire) ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঘণ্টাখানেকও পেরোয়নি। তার মধ্যেই এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসে। নাইটক্লাবের মালিক গৌরব ও সৌরভ লুথরা নাকি দেশ ছাড়েন (Luthra brothers escape)। তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা দিল্লি থেকে ইন্ডিগোর 6E 1073 ফ্লাইটে চেপে (Indigo flight Luthra brothers Phuket escape) সোজা থাইল্যান্ডের ফুকেটে উড়ে যান (Luthra brothers Phuket escape), এমনটাই তথ্য মিলেছে ইমিগ্রেশন সূত্রে।
শনিবার গভীর রাতে ক্লাবে আগুন লাগে। ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বটে, কিন্তু মালিকপক্ষ তখন আর দেশে নেই। ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইট ধরেন দুই ভাই। এরপরই গোয়া পুলিশ (Goa police) তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। কিন্তু ততক্ষণে তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
অদ্ভুতভাবে পালিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ ছিলেন সৌরভ লুথরা। ইনস্টাগ্রামে ‘শোক’ জানিয়ে পোস্ট করেন তিনি। ক্ষতির দায় এড়াতেই হয়তো তড়িঘড়ি দেশত্যাগ, অনুমান পুলিশের।
এরমধ্যেই পুলিশ দল দিল্লির বাড়িতে হানা দেয়। না পেয়ে আইনি নোটিস টাঙানো হয়। ৭ ডিসেম্বরই লুকআউট সার্কুলার জারি করে গোয়া পুলিশ। এরপর সিবিআইয়ের ইন্টারপোল সেলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, লুথরা ব্রাদার্সের ভগাতরে বিচে আরেকটি ক্লাব চলত, যেটি নাকি সরকারি জমিতে বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছিল। না ছিল ফায়ার সেফটি, না অন্য কোনও অনুমতি। অভিযোগ - স্থানীয় প্রশাসন, পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড, টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং-সহ বেশ কয়েকটি দফতরে অভিযোগ জানানো হলেও কোথাও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সমাজকর্মী রবি হরমালকার জানাচ্ছেন, অভিযোগ জানানোয় তিনি নিজেও হুমকি পেয়েছেন। দাবি, লুথরা ভাইদের নাকি গোয়ার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গেই ওঠাবসা ছিল।
গোয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। আর ততক্ষণে ঘটনাস্থল থেকে হাজার মাইল দূরে নিশ্চিন্তে রয়েছেন দুই অভিযুক্ত ক্লাবমালিক।