লখনউয়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় শ্বাসরোধ করে খুন শাশুড়িকে। স্নিফার ডগের সূত্রে গ্রেফতার পুত্রবধূ ও তাঁর প্রেমিক।

অভিযুক্ত রাজন, মৃতা ও তরুণী (বাঁ দিক থেকে)
শেষ আপডেট: 23 March 2026 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লখনউয়ে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে খুন করলেন তরুণী। সাহায্য করলেন প্রেমিক। নিজের ছেলেকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ। রঞ্জনা ও তাঁর প্রেমিক তথা বাড়ির ভাড়াটে রাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিশাতগঞ্জ (Nishatganj) এলাকায় দু'তলা বাড়ির নীচে ছেলে ত্রিদেশ (Tridesh), পুত্রবধূ রঞ্জনা ও তিন নাতির সঙ্গে থাকতেন নির্মলা দেবী। উপরের তলা ভাড়া দেওয়া ছিল। শনিবার দুপুরে ত্রিদেশের ১৪ বছরের ছেলে আদিত্য (Aditya) ও তার ঠাকুমা অর্থাৎ নির্মলা দেবীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রৌঢ়ার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ত্রিদেশের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী রঞ্জনার সঙ্গে ভাড়াটে রাজনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক (extramarital relationship) রয়েছে। তিনি কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর দু’জনের দেখা-সাক্ষাৎ হয়। বাড়িতে গোটা বিষয়টিই চোখে পড়ত তাঁর মায়ের। তিনি বিষয়টিকে বাধা দেন। সেই কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে ওই বাড়িতেই থাকছিলেন রাজন। সেখান থেকেই রঞ্জনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি (altercation) হত। নির্মলা দেবী ছেলের পক্ষ নিতেন, যাতে রঞ্জনা বিরক্ত হতেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার তিন দিন আগে রঞ্জনার সঙ্গে তর্কের পর নির্মলা দেবী আলাদা করে রান্না করার কথা বলেছিলেন। তার পরই খুনের পরিকল্পনা করা হয় বলে সন্দেহ। অভিযোগ, শাড়ি (saree) দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাঁকে। এরপর তাঁর গয়না (ornaments) লুট করে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় কিছুক্ষণের জন্য বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাও বন্ধ ছিল, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল (forensic team) ও ডগ স্কোয়াড (dog squad) পৌঁছয়। স্নিফার ডগ (sniffer dog) রাজনের দিকে এগিয়ে যায়। যদিও রাজন প্রথমে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে, পুলিশি জেরায় (interrogation) পরে খুনের কথা স্বীকার করেছে।