গুরুগ্রামে বিয়ের চার মাসের মধ্যেই ভয়াবহ পরিণতি, পণের দাবিতে স্ত্রীকে বিষ ইনজেকশন দিয়ে খুনের অভিযোগ।

অভিযুক্ত ও তাঁ
শেষ আপডেট: 22 March 2026 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের চার মাসের মাথায় সম্পর্ক তলানিতে। স্ত্রীকে বিষ ইনজেকশন দিয়ে খুন করলেন এক ব্যক্তি। ওই তরুণী পেশায় ছিলেন নার্স কিন্তু তাও বুঝতে পারেননি বিষ ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতেই এই খুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুগ্রাময়ের একটি নার্সিংহোমে (nursing home) সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অভিযুক্ত অরুণ ও তাঁর স্ত্রী কাজলের পরিচয়। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করতে করতে সম্পর্ক গাঢ় হয়, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, আর গত বছরের নভেম্বরে বিয়ে করেন দু’জনে। কিন্তু সেই সম্পর্কের মেয়াদ মাত্র চার মাস।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে নানা কারণে কাজলের উপর শারীরিক নির্যাতন (physical assault) শুরু করেন অরুণ। পাশাপাশি পণের দাবিতে (dowry harassment) চাপও বাড়তে থাকে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও অশান্তি লেগেই থাকত।
গত ৪ মার্চ, দোলের (Holi) দিন দম্পতি গুরুগ্রামের গারহী হরসরু (Garhi Harsaru) এলাকায় কাজলের বাড়িতে থাকতে আসেন। তার প্রায় দু’সপ্তাহ পর, ১৭ মার্চ, মদ্যপ অবস্থায় (under influence of alcohol) কাজলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
পরের দিন সকালে অরুণ কাজলকে বাড়ির নীচে নিয়ে গিয়ে কথা বলার সময় ফের বচসা বাধে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজলকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল সেসময়। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর বাথরুমে একটি সিরিঞ্জ (syringe) পাওয়া যায়। তাঁদের সন্দেহ, সেই সিরিঞ্জের মাধ্যমেই বিষ (poison) ইনজেকশন দিয়ে খুন করা হয়েছে কাজলকে।
পরে পুলিশের জেরায় অরুণ নিজেই সেকথা স্বীকার করেন। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) বেহতা হাজিপুর (Behta Hajipur) এলাকার বাসিন্দা অরুণের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির (substance abuse) অভিযোগও রয়েছে।
গুরুগ্রামের সেক্টর ১০ থানার (Sector 10 Police Station) অফিসার কুলদীপ সিং (Kuldeep Singh) জানিয়েছেন, রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে (police custody) রাখা হয়েছে আপাতত। দেহের ময়নাতদন্ত চলছে। মৃতদেহের ভিসেরা (viscera) পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।