গ্যাসের মজুত অযথা বাড়ানো বা কালোবাজারি রুখতে নতুন কিছু নিয়মও চালু হয়েছে। দুটি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে একটি বুকিংয়ের পর পরবর্তী বুকিং করতে ন্যূনতম ২১ দিন অপেক্ষা করতে হত, সেখানে এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 22:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির (Iran Israel War) প্রভাব ভারতের রান্নাঘরেও পড়তে শুরু করেছে। আরব বিশ্বের উত্তেজনা দশম দিনে পৌঁছতেই দেশে রান্নার গ্যাসের জোগান (Domestic LPG Gas) নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর জেরে বহু মধ্যবিত্ত পরিবারেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার পরিবেশ। তবে কেন্দ্র আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক কৌশল নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি মহলের দাবি, এই মুহূর্তে ঘরোয়া বাজারে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার ফলে এখনই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এনএলজি) দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি অংশ ঘরোয়া ব্যবহারের (Gas Cylinder) জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে গ্যাসের মজুত অযথা বাড়ানো বা কালোবাজারি রুখতে নতুন কিছু নিয়মও চালু হয়েছে। দুটি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে একটি বুকিংয়ের পর পরবর্তী বুকিং করতে ন্যূনতম ২১ দিন অপেক্ষা করতে হত, সেখানে এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। ডবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি রাখা হয়েছে।
এদিকে দেশের তেল শোধনাগারগুলিকেও উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের তুলনায় ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে সংস্থাগুলিকে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তর আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রমজান মাসের মুখে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েক দিনে দেশে গ্যাস বুকিং এক ধাক্কায় প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এই হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ দেখছে না। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে যে হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে তার মূল কারণ আতঙ্ক থেকে কেনাকাটা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানিতে সমস্যা হতে পারে। কারণ, ভারতের মোট রান্নার গ্যাসের চাহিদার একটি বড় অংশই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরশীল। সেই আশঙ্কাই এখন বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকার বলছে হাতে ৩০ দিনের মজুত আছে, আমেরিকা থেকেও গ্যাস আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন বাড়ির দোরগোড়ায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন না, তখন সরকারি আশ্বাসে চিঁড়ে কতটা ভিজবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।