রমজান মাসের মুখে রান্নার গ্যাসের এই টালমাটাল অবস্থায় দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে কয়েক কোটি মানুষের।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 9 March 2026 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ও ইজরায়েলের (Iran Israel War) লড়াই দশম দিনে পা দিতেই ভারতে রান্নার গ্যাসের (Domestic LPG Gas) জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। যা মধ্যবিত্তের হেঁশেলকেও ওলটপালট করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) প্রতাপগড়ে এক গৃহবধূ কালোবাজার থেকে ১৫০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার (Gas Cylinder) কিনতে বাধ্য হয়েছেন। রমজান মাসের মুখে রান্নার গ্যাসের এই টালমাটাল অবস্থায় দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে কয়েক কোটি মানুষের।
লাইনে শত শত মানুষ, বুকিংয়ে কড়া নিয়ম
নয়ডার সেক্টর ২২ থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর— সর্বত্রই ছবিটা এক। সোমবার সকাল থেকেই খালি সিলিন্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ। গত ৭ মার্চ ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সীতাপুরে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তিতে নিজের খালি সিলিন্ডারের ওপরই বসে পড়েছেন। গত কয়েক দিনে রান্নার গ্যাসের বুকিং এক ধাক্কায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল সংস্থাগুলিও হাত গুটিয়ে নিয়েছে। জানানো হয়েছে, এবার থেকে দুটি বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ২১ দিনের (ডাবল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ৩০ দিন) ব্যবধান থাকতে হবে। এই ‘লক-ইন’ পিরিয়ড বা বুকিংয়ের কড়াকড়ি দেখে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, তবে কি সত্যিই ফুরিয়ে আসছে গ্যাস?
আতঙ্ক না কি আকাল?
সরকার অবশ্য সাফ জানাচ্ছে, দেশে গ্যাসের কোনও অভাব নেই। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “জ্বালানি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই, আমাদের হাতে যথেষ্ট মজুত আছে।” তা সত্ত্বেও কেন এই হাহাকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা। সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছেন, লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশ থেকে আসা এলপিজি জোগান বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে আরব দুনিয়ার দেশগুলি থেকে।
কালোবাজারি ও স্থানীয় সংকট
দিল্লির ইন্ডিয়ান গ্যাস ডেলিভারি পার্টনারদের দাবি, গ্যাসের অভাব নেই, রোজই ট্রাক আসছে। কিন্তু ডিস্ট্রিবিউটর স্তরে তৈরি হওয়া জট এবং কালোবাজারিদের দাপটে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পক্ষেত্রেও। উত্তরপ্রদেশের খুরজায় সিরামিক কারখানায় যে গ্যাসের দাম আগে ছিল কেজি প্রতি ৬৯ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকায়। এমনকি পুণের বৃহত্তম শ্মশানেও গ্যাস-চালিত চুল্লি বন্ধ রাখতে হয়েছে ‘গ্যাসের অভাব’-এর দোহাই দিয়ে।
সরকার বলছে হাতে ৩০ দিনের মজুত আছে, আমেরিকা থেকেও গ্যাস আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন বাড়ির দোরগোড়ায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন না, তখন সরকারি আশ্বাসে চিঁড়ে কতটা ভিজবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।