দেশজুড়ে গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে। ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়ল কি না, উঠছে প্রশ্ন।

গ্যাস (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 7 March 2026 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে ডবল সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা। দুটোর বদলে একটা সিলিন্ডার। তারপর আজ অর্থাৎ শনিবার থেকে বেড়ে গেল দাম। এলপিজি গ্যাসের সঙ্গে বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যও। গৃহস্থলির কানেকশনের জন্য দিতে হবে ৬০ টাকা করে বেশি আর বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে দিতে হবে বাড়তি ১১৫ টাকা করে। নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে আজ থেকেই।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বড় শহরগুলিতে রান্নার গ্যাসের খরচ আরও বেড়ে গেল। দিল্লিতে (Delhi) ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৮৫৩ টাকা থেকে বেড়ে হল ৯১৩। মুম্বইতে (Mumbai) একই সিলিন্ডারের দাম ৮৫২.৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১২.৫০ টাকায়। কলকাতায় (Kolkata) গ্যাসের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৮৭৯। অন্যদিকে চেন্নাইতে (Chennai) ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৮৬৮.৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৮.৫০ টাকায়।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর পর গৃহস্থালির গ্যাসের দামে এই পরিবর্তন হল। এর আগে এপ্রিল ২০২৫ (April 2025)-এ শেষবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময় দিল্লিতে ভর্তুকিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের দাম স্থির হয়েছিল ৮৫৩ টাকা।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১,৭৬৮.৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৮৮৩ টাকা। মুম্বইয়ে এই সিলিন্ডারের দাম ১,৭২০.৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৩৫ টাকায়।
কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১,৯৯০ টাকা, যা আগে ছিল ১,৮৭৫.৫০ টাকা। চেন্নাইয়ে একই সিলিন্ডারের দাম ১,৯২৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২,০৪৩.৫০ টাকা। ফলে হোটেল (Hotel), রেস্তরাঁ (Restaurant) এবং ছোট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির খরচ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী (Union Petroleum and Natural Gas Minister) হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri) জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। নাগরিকদের জন্য সুলভ ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলেও তিনি জানিয়েছেন।
একই দাবি করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)। সংস্থার বক্তব্য, দেশজুড়ে পেট্রোল (Petrol), ডিজেল (Diesel) এবং এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো জ্বালানি ঘাটতির গুজবে কান না দিতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে সংস্থা।
সরকারি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), পেট্রোলিয়াম পণ্য (Petroleum Products) এবং এলপিজির মজুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে বিকল্প অঞ্চল থেকেও আমদানি বাড়ানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের সংসারের বাজেটে যে নতুন চাপ পড়ল, তা বলাই বাহুল্য।