পশ্চিম এশিয়া থেকে গ্যাসের যোগানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের একাংশের মধ্যেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার ফলেই বহু গ্রাহক সাধারণত একটি সিলিন্ডার খালি হওয়ার পর যতদিন পরে দ্বিতীয়টির বুকিং করেন, তার চেয়ে এখন অনেক তাড়াতাড়ি গ্যাস বুক করছেন। তাই স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কোথাও কোথাও আচমকা অহেতুক বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।

গার্হস্থ্য গ্যাস বুকিং-এ রাশ সংস্থার
শেষ আপডেট: 6 March 2026 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডেন ও ভারত গ্যাসের গৃহস্থ গ্রাহকদের (১৪.২ কেজির) রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুকিংয়ের (domestic cooking gas cylinder booking) ক্ষেত্রে ২১ দিন, আর হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম গ্যাসের গ্রাহকদের একই সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ২৫ দিন - পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরিস্থিতিতে (Middle East crisis) ‘আতঙ্কে’র বুকিংয়ে (Panic booking cooking gas) রাশ টানতে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা একটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের পরে দ্বিতীয়টি বুকিং করার ক্ষেত্রে ওই সময়সীমা বেঁধে দিল। অর্থাৎ, এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার গ্রাহক আপাতত দ্বিতীয় সিলিন্ডারটি বুকিং করতে পারবেন না (gas booking time limit)।
তেল সংস্থাগুলির ডিস্ট্রিবিউটরদের (বিক্রেতা) সংগঠনগুলির দাবি, রান্নার গ্যাসের যোগানে এখনও কোনও ঘাটতি (no crisis in cooking gas supply) নেই। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়া থেকে গ্যাসের যোগানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের একাংশের মধ্যেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার ফলেই বহু গ্রাহক সাধারণত একটি সিলিন্ডার খালি হওয়ার পর যতদিন পরে দ্বিতীয়টির বুকিং করেন, তার চেয়ে এখন অনেক তাড়াতাড়ি গ্যাস বুক করছেন। তাই স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কোথাও কোথাও আচমকা অহেতুক বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অস্বাভাবিক এই চাহিদায় রাশ টানতেই ওই নিয়ম চালু করেছে সংস্থাগুলি। তবে এ জন্য আলাদা করে কোনও বিজ্ঞপ্তি এখনও তেল সংস্থাগুলি বিক্রেতাদের দেয়নি।
বিক্রেতাদের দাবি, মৌখিক বা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বুকিং করার সফটওয়ারের মাধ্যমে সেই সিস্টেমে বা পরিকাঠামো সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে শুক্রবার থেকেই।
ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিজনবিহারী বিশ্বাস এদিন জানান, ইন্ডেনের কলকাতা এরিয়া অফিসের অধীনে রয়েছে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা জেলা। এই তিন জেলায় গ্রাহকেরা দৈনিক গড়ে কম বেশি এক লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং করে থাকেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখন সে সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজ্যে ইন্ডেনের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৮ লক্ষ। গৃহস্থ গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও সংস্থার রান্নার গ্যাসের যোগানে কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু আতঙ্কে অনেকেই হয়তো তাড়াহুড়ো করে সিলিল্ডার বুক করছেন। আর ফলে কৃত্রিম যোগান সঙ্কট যাতে না হয়, সে জন্য সংস্থা দুটি সিলিন্ডার বুকিং করার মাঝে ওই ২১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আমাদের পোর্টালেও সেই ব্যবস্থা চালু হয়ে গিয়েছে।”
যোগান সঙ্কট না থাকার একই দাবি করেছেন ভারত গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুকোমল সেন ও ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এলপিজি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপি) জেনারেল সেক্রেটারি সঞ্জয় আগরওয়ালও।
সুকোমলবাবু জানাচ্ছেন, কিছু কিছু জায়গার ডিস্ট্রিবিউটরদের দোকানে বুকিংয়ের হার এমনকি হঠাৎ গত কয়েকদিনে ৩০-৪০% বেড়ে গিয়েছে। সঞ্জয় জানান, তাঁদের সংস্থার গৃহস্থ গ্রাহকেরা এখন আপাতত একটি গ্যাস বুক করার ২৫ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করতে পারবেন।
তেল সংস্থাগুলির তরফে অবশ্য এখনও এ নিয়ে কিছু জানা যায়নি।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁ, হোটেলে রান্নার গ্যাসের জন্য ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়। তাদেরও ওই সিলিন্ডার বিক্রি করেন একই ডিস্ট্রিবিউটর বা বিক্রেতারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, আপাতত গৃহস্থের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস বিক্রির চেয়েও ১৪.২ কেজির গৃহস্থের সিলিন্ডার বিক্রি অগ্রাধিকার দিতে বলেছে তেল সংস্থাগুলি।