ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব পড়ল কলকাতার রান্নাঘরে। আপাতত নতুন করে ডবল এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ পেয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা।

এলপিজি সিলিন্ডার
শেষ আপডেট: 6 March 2026 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান–ইজরায়েলের যুদ্ধের (Iran–Israel Conflict) আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়েছে দেশের রান্নাঘরে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আপাতত নতুন করে এলপিজি-র ডবল সিলিন্ডার (LPG Double Cylinder) সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল গ্যাস সংস্থাগুলি। তেল সংস্থাগুলোর তরফে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের (LPG Distributor) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— কোনও গ্রাহক দ্বিতীয় সিলিন্ডারের আবেদন করলেও আপাতত তা মঞ্জুর করা যাবে না। আরব দুনিয়ায় অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে গ্যাসের জোগানে যাতে চাপ না পড়ে, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, আপাতত তাদের সেই একটি সিলিন্ডার নিয়েই কাজ চালাতে হবে। গ্যাস ডিলারদের (Gas Dealer) মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হয়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা আরব দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এই পথ দিয়েই বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। যুদ্ধের জেরে যদি এই পথের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তা হলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর অধিকাংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি (Gulf Countries) থেকে, এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়েই ভারতে পৌঁছয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত (LPG Stock) রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছলে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই নানা আতঙ্কে অনেক গ্রাহক আগেভাগেই সিলিন্ডার বুকিং (Cylinder Booking) শুরু করেছেন। এতে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন শহরের ডিস্ট্রিবিউটরদের কথায়, অনেকেই অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাই অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
এদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়বে— এমন গুজবও ছড়াতে শুরু করেছে। তার প্রভাব পড়ছে পেট্রল পাম্পগুলিতে। পাম্প মালিকদের কথায়, দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এখন গাড়ির ট্যাঙ্ক ভর্তি করে নিচ্ছেন।
তবে ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (West Bengal Petrol Dealers Association) সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়া (Arun Singhania) আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দামের সামান্য হেরফের হতে পারে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।