সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সব জেলাশাসকদের তলব করেছিলেন নবান্নে। সেই বৈঠকে কমিশনের যাবতীয় নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় জেলাশাসকদের কাছ থেকে। কাকে কী বলা হয়েছে, কাদের থেকে কী জানতে চাওয়া হয়েছে, সবটাই জানতে চান মুখ্যসচিব।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 21:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ (EC Full Bench Meeting) প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে - নির্বাচনের আগে কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি মেনে নেওয়া হবে না। জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের কার্যত খোলাখুলি হুঁশিয়ারিই দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)। আর এই বৈঠকের পরই সব জেলাশাসকদের নবান্নে তলব করেছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (CS Nandini Chakraborty)।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সব জেলাশাসকদের তলব করেছিলেন নবান্নে। সেই বৈঠকে কমিশনের যাবতীয় নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় জেলাশাসকদের কাছ থেকে। কাকে কী বলা হয়েছে, কাদের থেকে কী জানতে চাওয়া হয়েছে, সবটাই জানতে চান মুখ্যসচিব।
পাশাপাশি তিনি (মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী) এটাও নাকি জানতে চান যে বিভিন্ন মিডিয়ায় যেসব খবর বের হচ্ছে সেগুলি কি সত্যি? বিশেষ করে এই যে আজকের রাতের মধ্যে সব কাজ সেরে ফেলতে হবে বা এই রকম যে খবর বেড়িয়েছে সেটা কতটা সত্যি? সূত্রের খবর বেশ কিছু জেলাশাসক মুখ্যসচিবকে জানান হ্যাঁ, এটা সত্যি কথা।
নবান্ন সূত্রে খবর, ১৪ জন জেলাশাসক মুখ্যসচিবকে কমিশনের নির্দেশ সংক্রান্ত তথ্য দেন। এটাও বলেন, অ্যাডজুডিকেশন নিয়ে যতটুকু তথ্য জুডিশিয়াল অফিসাররা দিচ্ছেন, ততটুকুই পাওয়া যাচ্ছে, এর বেশি নয়। কারণ তাঁদের এটা জানা এক্তিয়ারের বাইরে। বাকি কমিশনের বৈঠক সংক্রান্ত নির্দেশনামা স্পষ্টত জানানো হয়েছে মুখ্যসচিবকে।
প্রসঙ্গত, এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) পুলিশ কর্তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আজকের রাতই হোক সেই রাত। যে রাতের পর বাংলায় যেন কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, বেআইনি নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি। অর্থাৎ ভোটের আগে বেআইনি মদ, বোমা, অস্ত্র, হাতিয়ার যা বাজেয়াপ্ত করতে হবে তা আজ রাতের মধ্যেই। কালকের জন্য যেন কিছু ফেলে রাখা না হয়।
এদিকে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়ে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল। পশ্চিমবঙ্গে নার্কোটিক আইনের (Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 (PITNDPS) প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিনীত গোয়েল সম্ভবত বলার চেষ্টা করেন যে, এই আইনে কাউকে আটক করতে হলে একটি অ্যাডভাইজারি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। তবে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গেলে কমিশন কিছুটা বিরক্ত হয়।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন করে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলায় অশান্তি হয়েছে কেন? আর কোনও রাজ্যে তো হয়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি এদিন বৈঠকে এসে স্পষ্ট অভিযোগ করে গেছে, প্রাক ভোট ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে। এরকম হবে কেন? ভোটে যেন কোনও হিংসা না হয়।