অভিযোগ উঠেছে, জগদ্দল বিধানসভা এলাকার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্থানীয় বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একদল দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মী রাজু সাউয়ের বাড়িতে হঠাৎ করে পৌঁছে যায়।

প্রতীকীই ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে ফের গুলি চলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় (Bhatpara)। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঠিক এমন সময়েই এই ঘটনা সামনে এল, যখন রাজ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল (EC Full Bench In West Bengal)। সোমবার প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে - নির্বাচনের আগে কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি মেনে নেওয়া হবে না। তার মধ্যেই এই গুলির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, জগদ্দল বিধানসভা এলাকার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্থানীয় বিজেপি নেতাকে (Bhatpara BJP Leader) লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একদল দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মী রাজু সাউয়ের বাড়িতে হঠাৎ করে পৌঁছে যায়। সেই সময় রাজু সাউ বাড়িতে ছিলেন না। তবে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই অমিত সাউ।
পরিবারের দাবি, দুষ্কৃতীরা অমিত সাউকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। তারপর তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। মারধরের পাশাপাশি বাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। হঠাৎ এই হামলার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
রাজু সাউয়ের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের দিন ব্যারাকপুরে অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন রাজু সাউ। সেই কারণেই আক্রোশ থেকে তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি প্রিয়াঙ্কু পাণ্ডের অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে।
গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ভাটপাড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) বৈঠকে পুলিশ কর্তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আজকের রাতই হোক সেই রাত। যে রাতের পর বাংলায় যেন কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, বেআইনি নগদ টাকা ও মদের কারবার না দেখি। অর্থাৎ ভোটের আগে বেআইনি মদ, বোমা, অস্ত্র, হাতিয়ার যা বাজেয়াপ্ত করতে হবে তা আজ রাতের মধ্যেই। কালকের জন্য যেন কিছু ফেলে রাখা না হয়।