ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Social Media Viral) হয়েছে আঁচলের সেই মুহূর্ত। যেখানে তিনি হলুদ মাখিয়ে, সিঁদুর কপালে ছুঁইয়ে মৃত প্রেমিককে ‘বর’ হিসেবে গ্রহণ করলেন।

ছবিতে আঁচল ও সাক্ষম
শেষ আপডেট: 30 November 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'কী জাত হবে যাবার কালে, সে কথা ভেবে বল না'। আজও সমাজে তার উত্তর অধরা। এই জাতের জাঁতাকলে পড়েই শেষ হয়ে গেল তরতাজা প্রাণ। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra News) নান্দের জাতপাতের গোঁড়ামির কারণে সেই মৃত্যু (Maharashtra Murder) ঘিরে চোখ ভেজাল আরও এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রেমিকের নিথর শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে সিঁদুর পরলেন ২১ বছরের আঁচল মামিদওয়ার (Woman Marries Lover's Body)। পরিবারের হাতে খুন হওয়া প্রেমিক সক্ষম তাতের ওই শরীরেই হলুদ মাখিয়ে প্রতীকী বিয়ে সারলেন তিনি। বিড়বিড় করে বলে চললেন, “ও মরে গেলেও আমাদের প্রেম বেঁচে রইল। হেরে গেল আমার বাবা আর ভাইরা (Love Lives)।”
ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Social Media Viral) হয়েছে আঁচলের সেই মুহূর্ত। যেখানে তিনি হলুদ মাখিয়ে, সিঁদুর কপালে ছুঁইয়ে মৃত প্রেমিককে ‘বর’ হিসেবে গ্রহণ করলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আঁচল-সক্ষমের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল আঁচলেরই দুই ভাইয়ের মাধ্যমে। কিন্তু সক্ষম অন্য জাতের হওয়ায় তা নিয়ে আপত্তি ছিল মামিদওয়ার পরিবারের। সম্প্রতি আঁচল বাড়িতে জানান যে তিনি সাক্ষমকেই ভালবাসেন এবং বিয়ে করবেন। অভিযোগ, তার পরপরই অশান্তি শুরু হয় পরিবারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নান্দেরের পুরনো গঞ্জ এলাকায় সক্ষমের উপর চড়াও হন আঁচলের ভাই হিমেশ। পুলিশের দাবি, হিমেশ কাছ থেকে গুলি করে সক্ষমের পাঁজরে আঘাত করেন। পরে একটি বড় পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৩ বছরের সক্ষমের।
ঘটনার পরই গ্রেফতার করা হয় হিমেশ, তাঁর ভাই সাহিল এবং বাবা গজানন মামিদওয়ারকে। পুলিশ জানিয়েছে, সক্ষম এবং হিমেশ পুরনো বন্ধু হলেও দু’জনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এর পর শুক্রবার সন্ধেয় সক্ষমের শেষকৃত্য চলছিল তাতে পরিবারে। হঠাৎই সেখানে এসে হাজির হন আঁচল। শোকে পাথর হয়েই তিনি প্রেমিকের দেহে হলুদ মাখান। তারপর নিজের কপালে সিঁদুর লাগিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন— “আমি আজ থেকে এই পরিবারের বউ। সাক্ষমের সঙ্গে আমার এই বিয়ে আমাদের প্রেমকে অমর করে রাখবে।”
প্রতিবাদী আঁচল সাংবাদিকদের সামনেই বলেন, “যারা আমার প্রেমিককে খুন করেছে, আমার সেই বাবা আর ভাইয়ের ফাঁসি চাই। ওরা ঠান্ডা মাথায় ওকে মেরে ফেলেছে।”