যাতে রিলায়্যান্স কর্তা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও সীমান্তে লুক-আউট সার্কুলার জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

অনিল আম্বানি।
শেষ আপডেট: 1 August 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিলায়্যান্স গ্রুপের (Reliance Group) চেয়ারম্যান অনিল অম্বানীকে (Anil Ambani) নিয়ে আইনি ঝামেলা আরও জটিল আকার ধারণ করল। ইডি (Ed) সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শুক্রবার প্রকাশ, তাঁর বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার (LOC) জারি করা হয়েছে। ৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম মামলায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার ইডির তলবের পরেও হাজিরা দেননি অনিল। এরপরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে Look out Circular জারি করেছে। যাতে রিলায়্যান্স কর্তা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও সীমান্তে লুক-আউট সার্কুলার জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
২০০৭ থেকে ২০১৯— এই সময়কালে অনিল অম্বানীর সংস্থা রিলায়্যান্স গ্রুপ বেশ কয়েক দফায় ইয়েস ব্যাঙ্ক (Yes bank) থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়। অভিযোগ, এই ঋণ মঞ্জুরের সময় ব্যাঙ্কিং নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি। ইডি-র তদন্তে আরও দাবি, ঋণ পাওয়ার আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের কয়েকজন কর্তা বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছিলেন, যা এক ধরনের অপ্রকাশিত টবিনিময় ব্যবস্থা' বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে খবর, অনিলের আর এক সংস্থা রিলায়্যান্স কমিউনিকেশন্স (RCom)-এর ঋণ অ্যাকাউন্টকে ‘ফ্রড’ বা প্রতারণামূলক হিসাব হিসেবে চিহ্নিত করতে চলেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এই সংক্রান্ত রিপোর্টে অনিল অম্বানীর নাম উল্লেখ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এই তথ্য জমা পড়বে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে।
২৩ জুন SBI-এর তরফে আরকম-কে এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্য শেয়ার বাজারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরেই তা প্রকাশ্যে আসে।
এ ব্যাপারে অনিলের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই চিঠি পাঠানো আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন, এবং বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখা হবে। এর আগেও অনিলের বিরুদ্ধে রিলায়্যান্স হোম ফিনান্সের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে এরিকসন মামলায় জরিমানা দিতে না পেরে তিনি জেল হেফাজতের মুখে পড়েছিলেন। তখন তাঁর দাদা মুকেশ অম্বানী এসে টাকা মিটিয়ে তাঁকে রক্ষা করেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিল অম্বানীর সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ঋণ অনিয়ম, আর্থিক অনুপযুক্ততা ও ধুঁকতে থাকা ব্যবসার মুখোমুখি। এবার ইডি-র সক্রিয় পদক্ষেপ এবং ব্যাঙ্কের ‘ফ্রড’ চিহ্নিতকরণ তাঁর কর্পোরেট ভাবমূর্তির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।এখন দেখার, এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসেন অনিল অম্বানী এবং আইনি লড়াই কতটা দীর্ঘ হয়।