রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার কিথানা গ্রামের ছেলেটির ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছনোর এই যাত্রা ছিল অনবদ্য।

শেষ আপডেট: 21 July 2025 22:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar resigns)। সোমবার রাজ্যসভায় বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ধনখড় নিজেই।
জন্ম রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার কিথানা গ্রামে, ১৯৫১ সালের ১৮ মে। সেখান থেকে শুরু করে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছনোর এই যাত্রা ছিল অনবদ্য। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭৯ সালে রাজস্থানের বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করার মাধ্যমে। ১৯৯০ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট ধনকড়কে (Jagdeep Dhankhar) 'সিনিয়র অ্যাডভোকেট' সম্মান দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট-সহ দেশের একাধিক উচ্চ আদালতে আইনচর্চা করেছেন ধনকড়। কয়লা, ইস্পাত, খনন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি সংক্রান্ত মামলায় বিশেষ দক্ষতা ছিল তাঁর। এরপর ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০২২ সাল পর্যন্ত জগদীপ ধনকড় ওই পদে ছিলেন। তার পর ইস্তফা দেন ((Jagdeep Dhankhar resigns)।
ধনকড়ের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, ঝুনঝুনু লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। চন্দ্রশেখর মন্ত্রিসভায় সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯৩ সালে নির্বাচিত হন রাজস্থানের কিশনগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে।
আইন ও রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও ধনকড়ের আগ্রহ ছিল প্রবল। এক সময় তিনি রাজস্থান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও রাজস্থান টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দিল্লি ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পদেও ছিলেন (এক্স-অফিসিও)। এছাড়াও ভারতীয় আইন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সালিশি সংস্থাগুলির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে ধনকড় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মন্ত্রিসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতের এক রূপান্তরকালীন যুগে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে ‘সত্যিকারের গৌরব’ বলেই বর্ণনা করেছেন তিনি।