বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতির যুক্তির কোনও ভুল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 July 2025 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার স্ত্রী বিএম পার্বতীকে তলব করার নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছিল কর্নাটক হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate – ED)-এর করা আবেদন এ বার খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।
সোমবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই ধরনের রাজনৈতিক লড়াই আদালতে নয়, ভোটের ময়দানে হওয়া উচিত। আদালত এও প্রশ্ন তোলে আদালত—“এই ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে ইডিকে কেন ব্যবহার করা হচ্ছে?”
বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ কড়া ভাষায় বলে, “আমার মহারাষ্ট্রে কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের বাধ্য করবেন না কিছু বলার জন্য। না হলে ইডিকে নিয়ে আমাদের খুব কঠোর মন্তব্য করতে হবে। রাজনৈতিক লড়াই ভোটারদের মধ্যে দিয়ে হোক, আপনাদের ব্যবহার করা হচ্ছে কেন?”
সওয়াল জবাবে ইডির তরফে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এসভি রাজু জানান, “ঠিক আছে, আমরা আবেদন প্রত্যাহার করব। তবে অনুরোধ, এটিকে যেন নজির হিসেবে গণ্য না করা হয়।”
তবে সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতির যুক্তির কোনও ভুল খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ—“বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। ধন্যবাদ, এসভি রাজু। কিছু কঠিন কথা বলার থেকে আমাদের রেহাই দিলেন।”
কী এই মুডা (MUDA) মামলা?
এই মামলায় কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার স্ত্রী বিএম পার্বতীর বিরুদ্ধে মাইসোর আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MUDA)-র মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, পার্বতীর ভাই ২০০৪ সালে এক জমি কেনেন ও তা বোনকে ‘উপহার’ দেন। সেই জমি MUDA ডেভেলপ করে দেয়, যদিও তা ছিল ব্যক্তিগত মালিকানার।
এরপর সেই জমির বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন পার্বতী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বেআইনিভাবে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পান, যার মধ্যে ছিল আরও ১৪টি প্লট। পরে যদিও তিনি জমি ফিরিয়ে দেন প্রশাসনের কাছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি তলব করেছিল পার্বতীকে। একইসঙ্গে তলব করা হয় কর্নাটকের মন্ত্রী বাইরথি সুরেশকে, যিনি এই মামলায় অভিযুক্ত নন, কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল ইডি।
তবে চলতি বছরের ৭ মার্চ কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্ন পার্বতী ও বাইরথি সুরেশ—দু’জনের ক্ষেত্রেই তলবের নির্দেশ খারিজ করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় ইডি। তবে সোমবার সেই আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।