আদালত বলেছে, লিভ-ইন সম্পর্ক ছেদে মহিলারাই সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিভ-ইন সম্পর্ককে ভারতের মধ্যবিত্ত মূল্যবোধের বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। অতি সম্প্রতি একটি জামিনের আবেদনের শুনানিতে আদালত বলেছে, লিভ-ইন সম্পর্ক ছেদে মহিলারাই সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিবাহ নিরপেক্ষ সম্বন্ধ চালিয়ে যাওয়া ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজ-মানসিকতার পরিপন্থী।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি সিদ্ধার্থের এজলাসে মামলাটির শুনানি চলছিল। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনেছিলেন এক মহিলা। আদালত অবশ্য অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করে দিয়ে এই মন্তব্য করে। একইসঙ্গে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে যে, এ ধরনের মামলা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সুপ্রিম কোর্টে লিভ-ইন সম্পর্ক আইনি তকমা পাওয়ার পর থেকে আদালতে এ ধরনের ঝামেলা নিয়ে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণই হল, লিভ-ইন সম্পর্কের ধ্যানধারণা প্রচলিত ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজ মানসিকতার বিপরীতমুখী। আদালত আরও বলে, লিভ-ইন সম্পর্ক সর্বদা মহিলাদের চরম ক্ষতি করে। কারণ, এ ধরনের সম্পর্ক ছেদের পর একজন পুরুষ সহজেই বেরিয়ে আসতে পারে। বা অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু, কারও সঙ্গে সহবাসের পর একজন মহিলার পক্ষে দ্বিতীয় কাউকে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে।
আদালতে শানে আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা ও পকসো আইনে মামলা করা হয়েছিল। যার ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল শানে আলমকে। অভিযোগ আলম এক মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। আদালত শানে আলমের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে দিয়েছে।
মহিলার আইনজীবী আদালতে বলেন, অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি তাঁর মক্কেলকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু শেষমেশ বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। এতে ওই মহিলার জীবন ধ্বংসের কিনারায় এসে ঠেকেছে। কারণ ওই মহিলাকে এখন আর কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না। এই প্রসঙ্গে আদালতের অভিমত হল, যুবসমাজের মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যেখানে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেমন এই মামলায় ধরা পড়েছে।