দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষে মদ নীতি মামলায় বেকসুর খালাস কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়া। রায় প্রকাশ্যে আসতেই ইডি–সিবিআই তদন্ত নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।

কেজরিওয়াল- সিসোদিয়া
শেষ আপডেট: 27 February 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির বহুচর্চিত আবগারি বা মদের নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন আম আদমি পার্টির দুই শীর্ষ নেতা। নয়াদিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ আদালত এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া (Manish Sisodia) দুজনকেই বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির আবগারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও সামগ্রিক ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। বিচারকের স্পষ্ট মন্তব্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ আনার মতো উপযুক্ত তথ্য বা প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থাগুলি আদালতে উপস্থাপন করতেই পারেনি।
২০২৫ সালে দিল্লিতে বিধানসভা ভোটের আগে এই আবগারি কাণ্ডে তদন্ত নিয়েই আম আদমি পার্টিকে নাস্তানাবুদ করে রেখেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। প্রথমে উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করে তিহাড় জেলে রাখা হয়। তার পর গ্রেফতার করা হয় অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। তাঁকে জামিন দিলেও আদালত নির্দেশ দেয় মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে পারবেন না তিনি।
কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির এই মামলাকে সামনে রেখেই কেজরিওয়ালকে দুর্নীতিপরায়ণ বলে দাগিয়ে দেয় বিজেপি। ভোটে তা নিয়ে প্রচার করে। এক সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা কেজরিওয়াল নিজেই কতটা পাঁকে ডুবে গেছেন সেটাই ছিল অমিত শাহদের প্রচার। এর পর দিল্লির ভোটে ডাহা হারে আম আদমি পার্টি। অথচ শুক্রবার আদালত পরিষ্কার জানাল, দুর্নীতির অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণই দিতে পারেনি ইডি বা সিবিআই।
এই রায়কে আম আদমি পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে দিল্লির রাজনীতিতে মদের নীতি বিতর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে ধরা হচ্ছে।