রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে একাধারে প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশে লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে সমানাধিকারের দাবি উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে এই মনোনয়ন শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির দিক থেকেও একটি বড় পদক্ষেপ।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 28 February 2026 00:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশ (historic moment in Indian Politics)। আজই বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভার প্রার্থী (Menaka Guruswamy Rajya Sabha) হিসেবে মনোনীত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এই মনোনয়নের ফলে ভারত প্রথমবার পেতে চলেছে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের প্রথম সাংসদ (First LGBTQ MP India)। দেশে তৈরি হতে চলেছে নতুন এক ইতিহাসের অধ্যায় (Indian Politics)।
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে একাধারে প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশে লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে সমানাধিকারের দাবি উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে এই মনোনয়ন শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির দিক থেকেও একটি বড় পদক্ষেপ।
মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy) দেশের অন্যতম পরিচিত আইনজীবী হিসেবে সুপরিচিত। মানবাধিকার এবং এলজিবিটিকিউ অধিকারের (LGBTQ rights) প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর এই সম্ভাব্য সাংসদ হওয়া নিঃসন্দেহে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসরে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে, তখন এই পদক্ষেপ জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে মেনকা গুরুস্বামীর সংসদে প্রবেশ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের এক বড় স্বীকৃতি হিসেবেও চিহ্নিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ৩৭৭ ধারার লড়াইয়ের সময় দেশের কাছে প্রতিনিধি হয়ে উঠে এসেছিলেন মেনকা গুরুস্বামী। পাশে ছিলেন তাঁর সঙ্গী এবং আইনজীবী অরুন্ধতী কাটজু। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে ব্যক্তিগত সাহস - দুই ক্ষেত্রেই নজির গড়েন ভারতের এই দুই সমকামী আইনজীবী।
এই দুই আইনজীবীই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভারতীয় দণ্ডবিধির বিতর্কিত ৩৭৭ ধারা (Section 377)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে। ব্রিটিশ আমলের এই আইন সমকামীদের মধ্যে সম্মতিসূচক সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করত।
২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায়ে এই আইনের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয়, নিজেদের ২০১৩ সালের রায় খারিজ করে। এই রায়কে LGBTQ অধিকারের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়। ২০১৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন-এর বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন মেনকা এবং অরুন্ধতী।