রাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmi Bhandar)— যেখানে মহিলাদের মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সদ্য ঘোষিত ‘যুবসাথী’ (Yuba Saathi) প্রকল্পেও নির্দিষ্ট শ্রেণির যুবদের আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 19 February 2026 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনের আগে ‘খয়রাতি’ (Freebies) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) সর্বস্তরের গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, সামর্থ্যবান ও অসামর্থ্যের মধ্যে পার্থক্য না করে নির্বিচারে সুবিধা বিতরণ কি অর্থনীতির পক্ষে টেকসই? উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমে গেলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নটাই উঠতে শুরু করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কল্যাণের কথা মাথায় রেখে অসামর্থ্যদের পাশে দাঁড়ানো এক কথা, আর ভোটের মুখে নির্বিচার খয়রাতি অন্য। রাজ্যগুলিকে তাদের বাজেটে স্পষ্ট করে দেখাতে হবে, এ ধরনের প্রকল্পের অর্থ জোগান কোথা থেকে আসবে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) একাধিক প্রকল্পের প্রসঙ্গ। যেমন, রাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmi Bhandar)— যেখানে মহিলাদের মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সদ্য ঘোষিত ‘যুবসাথী’ (Yuba Saathi) প্রকল্পেও নির্দিষ্ট শ্রেণির যুবদের আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
শাসক দলের দাবি, এগুলি খয়রাতি নয়, সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অংশ। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর হাতে নগদ পৌঁছে দিলে তা স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে। মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন বা বেকার যুবকদের ন্যূনতম সহায়তা— এই যুক্তিই সামনে আনা হয়।
তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, রাজস্ব তলানিতে যাওয়া রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থ সহায়তা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী? উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র কি তাতে চাপে পড়ছে না?
সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি কোনও রাজ্যের নাম না করলেও, তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যত গোটা দেশের রাজ্য সরকারগুলির জন্যই প্রযোজ্য। কল্যাণমূলক ব্যয় ও ভোটমুখী খয়রাতির মধ্যে সীমারেখা কোথায়— সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, প্রকল্পের লক্ষ্য, আর্থিক স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই নির্ধারণ করবে কোনও পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা নাকি নির্বাচনী খয়রাতি। আদালতের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিশেষ করে তামিলনাড়ু সরকারকে (Tamilnadu Government) প্রশ্ন করা হয়, কেন শেষ মুহূর্তে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘোষণা করা হল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে হঠাৎ করেই শুল্ক নির্ধারণ ও বাজেটের হিসেব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে, যা প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সুপ্রিম কোর্ট এও বলে, এইসব ভর্তুকির ফলে উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও থাকছে না, সবই বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে গিয়ে খরচ করছে সরকার।
বিচারপতিরা জানান, বহু রাজ্য ইতিমধ্যেই আয়-ব্যয়ের ঘাটতিতে ভুগছে। এই অবস্থায় পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া বড়সড় ভর্তুকি (Freebies) চালু করলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে একাধিক রাজ্যে আচমকা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণার নজির রয়েছে বলেও আদালত উল্লেখ করে। সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়া হলে মানুষ কাজ করার আগ্রহ হারাবে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।