সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ, কারখানা থেকে দোকান এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে পৌঁছনো, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও সংরক্ষণ বা হ্যান্ডলিংয়ে ত্রুটি হয়েছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।

ডেজার্টের কৌটো খুলে দেখা গেল ‘তেল’ ভাসছে
শেষ আপডেট: 22 March 2026 21:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেজার্টের কৌটো খুলে দেখা গেল ‘তেল’ ভাসছে (frozen dessert oil issue)! এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ায়, তাই নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রাজস্থানের এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, কোয়ালিটি ওয়ালস (Kwality Wall's)-এর একটি ফ্রোজেন ডেজার্টের কৌটোর ভিতরে নীচের অংশে ‘তেল’ জমে থাকতে দেখা গেছে। এই ভিডিওটি এক্স (X)-এ পোস্ট হতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে (Kwality Walls oil issue controversy)।
ভাইরাল ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, ওই মহিলা ফ্রোজেন ডেজার্ট - ফ্রুট অ্যান্ড নাট (Frozen Dessert - Fruit & Nut) নামের একটি প্যাকেট দেখিয়ে বলছেন, উপরের স্তর খাওয়ার সময়ই স্বাদ কিছুটা অদ্ভুত এবং তেলতেলে মনে হচ্ছিল। পরে কৌটোর নীচের দিকে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, সেটি প্রায় ‘তেলেই ভরা’।
ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এটা গলছেও না ঠিকমতো, স্বাদটাও অদ্ভুত। আমি আর কখনও এই আইসক্রিম খাব না। আমার স্বামীকেও বলেছি যেন আর না কেনে। এটা আমার প্রিয় ছিল, কিন্তু এখন খুবই হতাশ লাগছে।”
ওই প্যাকেটের গায়ে এক্সপায়ারি তারিখ দেওয়া রয়েছে ১৫ জুন, ২০২৬।
‘আইসক্রিম নয়, ফ্রোজেন ডেজার্ট’ - নেটিজেনদের মন্তব্য
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বহু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কোয়ালিটি ওয়ালস আসলে ‘আইসক্রিম’ নয়, ‘ফ্রোজেন ডেজার্ট’ বিক্রি করে। এই ধরনের পণ্যে দুধের ফ্যাটের বদলে পাম অয়েল ব্যবহার করা হয়, যার ফলে এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে বলে দাবি তাঁদের।
সংস্থার ব্যাখ্যা
এই বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছে কোয়ালিটি ওয়ালস ইন্ডিয়া লিমিটেড (Kwality Walls India Limited)। সংস্থার এক মুখপাত্র NDTV-কে জানান, “রাজস্থানে আমাদের একটি পণ্যের প্যাকেট নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, আমরা তা জানতে পেরে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছি।”
সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সংস্থার বক্তব্য, ফ্রোজেন ডেজার্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য এবং উৎপাদন থেকে গ্রাহকের ফ্রিজ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন ‘কোল্ড চেন’ বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে গরমকালে তাপমাত্রার ওঠানামা হলে পণ্যের গঠন ও গুণমানে প্রভাব পড়তে পারে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ, কারখানা থেকে দোকান এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে পৌঁছনো, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও সংরক্ষণ বা হ্যান্ডলিংয়ে ত্রুটি হয়েছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।
বিবৃতির শেষে সংস্থা দাবি করেছে, গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাকেই তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং পণ্যের মান উন্নত করার পাশাপাশি কোল্ড চেন আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই সংস্থার ব্যাখ্যায় উঠে আসছে সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এখন দেখার, তদন্তে আসল কারণ কী সামনে আসে।