ডায়ালিসিসের বিশাল খরচ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে অসহনীয় এক বোঝা। খান স্যারের উদ্যোগে সেই ব্যয় কমেছে অনেকটাই।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 23 August 2025 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় ইউটিউবার এবং সকলের প্রিয় খান স্যার তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন। পাটনায় তিনি চালু করলেন শহরের প্রথম সাশ্রয়ী ডায়ালিসিস সেন্টার। এক কিশোরের চিকিৎসাজনিত সংগ্রামের কথা জেনে এই উদ্যোগ নেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেন খান স্যার।
নতুন এই সেন্টারে পরিষেবা নিতে আসা মানুষ ‘patient’ নন, বরং তাঁরা সকলেই ‘guest’ বা অতিথি। রোগীর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই এখানে মূল লক্ষ্য। দরিদ্র ও অভাবী রোগীরা ন্যূনতম খরচে কিংবা একেবারেই বিনা খরচে ডায়ালিসিস পরিষেবা পাবেন।
সাধারণত ডায়ালিসিসের বিশাল খরচ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে অসহনীয় এক বোঝা। খান স্যারের উদ্যোগে সেই ব্যয় কমেছে অনেকটাই। তাঁর কথায়, আর্থিক অক্ষমতা যেন কোনও মানুষকে সাধারণ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না করতে পারে।
পাটনার এই সেন্টারে আধুনিক ডায়ালিসিস মেশিন ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে এবং পরিষেবা চালুও হয়েছে। শুধু এখানেই নয়, ভবিষ্যতে বিহারের প্রতিটি জেলায় ডায়ালিসিস সেন্টার ও আধুনিক ব্লাড ব্যাংক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে খান স্যারের।
ইউটিউবার ফয়জাল খান, যিনি সবার কাছে খান স্যার নামেই পরিচিত, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের পবিত্র দিনে জানান, বিহারের প্রতিটি জেলায় ডায়ালিসিস সেন্টার ও আধুনিক ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করবেন তিনি।
খান স্যার দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের কাছে সহজ-সরল পড়ানোর ধরণে খ্যাতি পেয়েছেন। তবে এবার তাঁর লক্ষ্য সমাজের দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা খরচের বোঝা হালকা করা। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, জার্মানি থেকে আধুনিক ডায়ালিসিস মেশিন ইতিমধ্যেই অর্ডার করা হয়েছে। সাধারণত একেকজন কিডনি রোগীর মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায় ডায়ালিসিসে। সেই পরিষেবা যাতে সস্তায় বা বিনামূল্যেই দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থাই করতে চান তিনি। এর ফলে আর রোগীদের জমি বা গয়না বিক্রি করে চিকিৎসা করাতে হবে না, কিংবা পাটনার মতো বড় শহরে ছুটতেও হবে না।
ডায়ালিসিস ছাড়াও প্রতিটি জেলায় আধুনিক ব্লাড ব্যাংক তৈরি করা হবে, যার যন্ত্রপাতি আসছে জাপান থেকে। এর প্রথম ব্লাড ব্যাংক চালু হবে নবরাত্রির প্রথম দিনে। খান স্যার জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার রোগীদের রক্ত পাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি সময়ে রক্ত না পেয়ে অনেকেই প্রিয়জনকে হারান, এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নতুন উদ্যোগ নিতে প্রেরণা দিয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রগুলোকে সম্পূর্ণ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করেছেন তিনি। আসন্ন দিওয়ালিতে একটি বিশেষ হাসপাতাল উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছট উৎসবের সময় চালু হবে আধুনিক জার্মান মেশিন সমৃদ্ধ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারও। খান স্যার বলেন, সমাজের কাছ থেকে যে ভালবাসা তিনি পেয়েছেন, তার প্রতিদানই তিনি স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দিতে চান।
তাছাড়া রাখির দিন তাঁকে ছাত্রীরা হাতভর্তি করে রাখি পরিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের প্রতিশ্রিতি দিয়েছিলেন সেই দিন, ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তুলবেন তিনি, তাও খুব তাড়াতাড়ি।