শনিবারই টোকিওতে মোদী জাপানের ১৬টি প্রিফেকচারের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি ভারত ও জাপানের রাজ্য-প্রীফেকচার স্তরের সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

নরেন্দ্র মোদী এবং শিগেরু ইশিবা
শেষ আপডেট: 30 August 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টোকিওর সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India Japan Relation) এবার আরও দৃঢ় হল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে - হাই-স্পিড রেল, মহাকাশ গবেষণা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
জাপান সফরের সারাংশ হিসেবে নরেন্দ্র মোদী সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, “এই সফর দুই দেশের মানুষের উপকারেই আসবে। আমি প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা (Shigeru Ishiba), জাপান সরকার ও জনগণের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞ।” এদিন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুলেট ট্রেনেও (Bullet Train) সফর করেন মোদী। সেই ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
এর আগে শনিবারই টোকিওতে মোদী জাপানের ১৬টি প্রিফেকচারের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি ভারত ও জাপানের রাজ্য-প্রীফেকচার স্তরের সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। কিন্তু মূলত কী কী বিষয় উঠে এল মোদীর এই জাপান সফর থেকে, তা দেখে নেওয়া যাক।
মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা
ভারতের ইসরো ও জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা একসঙ্গে কাজ করবে আসন্ন চন্দ্রযান-৫ মিশনে (Chandrayaan 5)। এর মাধ্যমে চাঁদে অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দুই দেশ হাত মিলিয়ে এগোবে। ইসরোর লক্ষ্য ২০২৭ বা ২০২৮ সালে এই মিশন সফল করা। এই মিশনের সবথেকে বড় চমক থাকবে রোভারের ওজনে। চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান-এর ওজন ছিল ২৫ কেজি। তবে চন্দ্রযান ৫-এর রোভার ওজন হতে চলেছে ২৫০ কেজি!
বুলেট ট্রেন
শুক্রবার সেনদাই শহরে মোদী ও ইশিবা একসঙ্গে ওঠেন শিনকানসেন বুলেট ট্রেনে (Bullet Train)। সেখানে মোদী কথা বলেন সেই সব ভারতীয় ট্রেন চালকদের সঙ্গে, যারা জাপানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের জন্য। এই প্রকল্পে জাপানের প্রযুক্তি ও সহায়তা থাকছে। যাত্রাপথে দু’জনেই পূর্ব জাপান রেলওয়ে কোম্পানির (JR East) আধুনিক বুলেট ট্রেন পরিষেবা ও এর উন্নত প্রযুক্তি ঘুরে দেখেন।
অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি
সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে বিনিয়োগে। আগামী দশ বছরে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগ করবে জাপান। সেমিকন্ডাক্টর, রেয়ার আর্থ, ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য শক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ লগ্নি হবে।
নরেন্দ্র মোদীর মতে, ভারত-জাপান সম্পর্ক এখন বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম ভরকেন্দ্র। সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং এক নতুন সোনালি অধ্যায়ের ভিত্তি গড়ে তুলবে। মোদীর কথায়, “বাণিজ্য, উদ্ভাবন, উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের রাজ্য ও প্রিফেকচারের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্টার্টআপ ও টেক সেক্টরে যৌথ কাজ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”