নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পকসো-র ধারাগুলোর সাজা আগে ভোগ করতে হবে, তারপর আজীবন কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (teacher sentenced to life imprisonment) দিল কেরলের (Kerala) এক আদালত। শনিবার থালাসেরি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশ্যাল কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। দোষী শিক্ষক পদ্মরাজন কে, যিনি ‘পাপ্পেন মাস্টার’ নামেও পরিচিত। ৪৮ বছরের ওই ব্যক্তি কাডাভাথুরের বাসিন্দা এবং একই সঙ্গে স্থানীয় বিজেপির সক্রিয় কর্মী।
রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পালাথাইয়ের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন পদ্মরাজন। সেই সময় ওই নাবালিকাকে তিনি একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন (Kerala minor rape case)। গুরুতর এই অভিযোগে বিচারক জলরাজনি এম টি তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালত আইপিসির ৩৭৬এবি ধারায় (১২ বছরের কম বয়সি নাবালিকাকে ধর্ষণ) তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেন। শুধু তাই নয় ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেন। পাশাপাশি পকসো আইনের ৫(এফ) ও ৫(এল) ধারায় (শিশুর উপর প্রবেশমূলক যৌন আক্রমণ ও পুনরাবৃত্ত প্রবেশমূলক আক্রমণ) পৃথকভাবে ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং প্রতিটি ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।
যদিও আইপিসির ৩৭৬(২)(এফ) এবং পকসোর ৫(এম) ধারাতেও তিনি দোষী প্রমাণিত হন, আদালত সেসব ধারায় আলাদা শাস্তি ঘোষণা করেনি। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পকসো-র ধারাগুলোর সাজা আগে ভোগ করতে হবে, তারপর আজীবন কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
জরিমানার পুরো অঙ্ক ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত করে সুপারিশ জানাতে বলা হয়েছে।
রায় শোনানোর আগে পদ্মরাজন আদালতের কাছে ক্ষমা চান। দাবি করেন, তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তবে প্রসিকিউশন জানায়, অপরাধের প্রকৃতি এতটাই ভয়াবহ যে, এখানে কোনওরকম শিথিলতার সুযোগ নেই। আদালতও একই অবস্থান নেয়।
রায় ঘোষণার পর তাঁকে কান্নুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
টয়লেট ও বাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ
অভিযোগ অনুসারে, স্কুলের টয়লেট এবং নিজের বাড়িতে ওই নাবালিকাকে তিনি বারবার নির্যাতন করেছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পানুর পুলিশ মামলা রুজু করে। ১৫ এপ্রিল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
শুরুর তদন্তে পকসোর ধারাগুলি না যোগ করায় তিনি সহজেই জামিন পেয়ে যান। বিজেপি অভিযোগ করে, এটি নাকি এসডিপিআইয়ের ষড়যন্ত্র। এর পর তদন্তের দায়িত্ব চলে যায় ক্রাইম ব্রাঞ্চে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ ও অসন্তোষের ভিত্তিতে কেরল হাইকোর্ট নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তদল দু’বার বদলানো হয়। শেষমেশ এডিজিপি ই জে জয়ারাজের নেতৃত্বে পঞ্চম দল তদন্ত সম্পূর্ণ করে চার্জশিট জমা দেয়।
গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে চলা বিচারপর্বে ৪২ জন সাক্ষী ও ৯১টি নথি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তারপর এই উল্লেখযোগ্য রায় ঘোষণা করে আদালত।