রাজ্যকে দেশের সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে— এই অভিযোগকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে কেরালা হাইকোর্ট মঙ্গলবার জানাল, তারা বুধবার ‘দ্য কেরালা স্টোরি টু’ (The Kerala Story 2 ) ছবিটি নিজে দেখবে।

আগামী শুক্রবারই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা।
শেষ আপডেট: 24 February 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যকে দেশের সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে— এই অভিযোগকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে কেরালা হাইকোর্ট মঙ্গলবার জানাল, তারা বুধবার ‘দ্য কেরালা স্টোরি টু’ (The Kerala Story 2 ) ছবিটি নিজে দেখবে। ছবিটির সেন্সর শংসাপত্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া এক আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাস বলেন, সাধারণত আদালত শিল্পীসত্তার প্রকাশে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। কিন্তু ছবির নামে কেরালার নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে রাজ্যের মানুষের যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করা যায় না। প্রসঙ্গত, আগামী শুক্রবারই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা।
বিচারপতি মন্তব্য করেন, “কেরল রাজ্য সম্প্রীতির জায়গা। সবাই মিলেমিশে থাকে। কিন্তু আপনারা এমনভাবে দেখিয়েছেন, যেন গোটা রাজ্যজুড়ে এসব হচ্ছে। এতে ভুল বার্তা যেতে পারে, মানুষের আবেগ উসকে যেতে পারে। এখানেই সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা আসে। সেটা কি ভেবেছেন?” আদালত জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা ছবিটি দেখবে। বিচারপতি বলেন, “সাধারণত আমি কোনও সিনেমায় হস্তক্ষেপ করি না। শিল্পের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু আপনারাই বলছেন, সত্যি ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি। আর তার সঙ্গে কেরলের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। আমি কাল ছবিটা দেখব। আপনারা কালই একটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করুন।” প্রযোজকদের আদালতকে সিনেমার প্রদর্শনের সময় ও জায়গা জানাতে বলা হয়েছে।
শুনানির সময় হাইকোর্ট আরও বলে, “কেরল ধর্মনিরপেক্ষতার ভূমি, এখানে সবাই সম্প্রীতিতে বাস করে।” সমাজের একটি অংশ যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে যখন কোনও ছবি দাবি করে যে তা সত্যি ঘটনার উপর ভিত্তি করে বানানো। আদালত আগের একটি ঘটনার কথাও তোলে। ‘হাল’ (দুই হাজার পঁচিশ) নামের একটি ছবির কিছু দৃশ্য আপত্তির জেরে কাটা হয়েছিল। ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এই ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।
শুনানিতে প্রযোজকদের আইনজীবী দাবি করেন, ছবিতে এমন কিছু নেই যা কোনও ধর্ম বা গোষ্ঠীকে আঘাত করে। তাঁদের বক্তব্য, ছবিটি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করেনি। অন্যদিকে আবেদনকারীদের তরফে বলা হয়, ছবিতে কয়েকজন তরুণীকে “লাভ জেহাদের শিকার” হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ কাহিনিতে দেখানো অভিযোগভুক্ত একজনও কেরলের বাসিন্দা নন। তা সত্ত্বেও ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি টু’, যা রাজ্যের সমাজকে খারাপভাবে তুলে ধরছে বলে তাঁদের দাবি।
ছবিটি আদালত নিজে দেখার সিদ্ধান্তে বিতর্ক আরও বেড়েছে। কারণ, ছবির বিষয়বস্তু, কেরলের নামের ব্যবহার এবং সত্যি ঘটনার দাবি, সব মিলিয়ে তা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং এবং প্রযোজনা করেছেন বিপুল অমৃতলাল শাহ। আদালত ছবিটি দেখার পরেই পরবর্তী নির্দেশ দেবে।