পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মণি (৭৪) ও তাঁর মেয়ে রেখার (৪৩) মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কয়েকদিন ধরেই দুজনের দেখা পায়নি প্রতিবেশীরা । ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোলে সন্দেহের জেরে স্থানীয় থানায় খবর দেন তাঁরা।
_0.jpg.webp)
ছবি- গুগল
শেষ আপডেট: 5 June 2025 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই মহিলার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য কেরলের (Kerala Death Case) ত্রিশূরের পারিওর গ্রামে। মৃত দু'জন সম্পর্কে মা-মেয়ে। পুলিশি তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে প্রেমকুমারের (Prem Kumar) নাম, যে কিনা প্রথম স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মণি (৭৪) ও তাঁর মেয়ে রেখার (৪৩) মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কয়েকদিন ধরেই দুজনের দেখা পায়নি প্রতিবেশীরা । ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোলে সন্দেহের জেরে স্থানীয় থানায় খবর দেন তাঁরা। অন্যদিকে রেখার দিদিকে খবর দেওয়া হয়। তিনি পিছনের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখতে পান গোটা ঘর তছনছ হয়ে রয়েছে এবং বিছানার উপর দুটি (মা ও বোন) মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ করে দু'জনকে খুন (Strangle to Death) করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। রেখার স্বামী প্রেমকুমারকেই সন্দেহ করছে পুলিশ। কোট্টায়াম জেলার বাসিন্দা প্রেমকুমারের (Accused Prem Kumar) দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল রেখা। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও একটি খুনের মামলা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথম স্ত্রী বিদ্যাকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, স্ত্রীকে খুন করে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিলেন প্রেমকুমার। বর্তমানে জামিনে মুক্ত ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় গার্হস্থ্য হিংসার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দম্পতির জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল।
ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি প্রেমকুমারেরই লেখা। যদিও নোটের পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশের দাবি, চিঠিতে যে কথা লেখা ছিল, তা দেখে মনে হয়েছে কাউকে শাসানোর বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রেমকুমার এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কেরলের অন্যান্য থানাগুলিকে ইতিমধ্যেই প্রেমকুমারের ছিবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।