রাজ্য পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন করে সিপিএমের পলিটব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয় কেন্দ্রের অর্থ কমিশনও কেরলের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছে।

পিনারাই বিজয়ন
শেষ আপডেট: 13 January 2026 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarai Vijayan)। রাজ্য সিপিএমের দাবি, গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকার কেরলকে প্রাপ্য ৫৭ হাজার কোটি টাকা দেয়নি। রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে দলের সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই (Kerala CM) ঘোষণা করেছেন, তৃতীয়বার সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফকে ক্ষমতায় রেখে রাজ্যের মানুষ এই বঞ্চনার জবাব দেবেন।
দু'দিন আগে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তিরুবন্তপুরমে গিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেরল (Kerala Assembly Election) দখলের ডাক দিয়েছেন। শাহ বলেছেন, দক্ষিণের এই রাজ্যের সর্বত্র এবার পদ্মের শোভা দেখা যাবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মতো কেরলেও সিপিএম সরকার মূলত অমিত শাহকে নিশানা করেছে। তৃণমূলের মতই কেরলের সিপিএমও অভিযোগ করছে, নির্বাচন কমিশনকে পিছন থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চালনা করছেন।
বাংলার মতোই এসআইআর (SIR) নিয়ে গুচ্ছ প্রশ্ন তুলে আন্দোলনের সামিল হয়েছে কেরল সিপিএম। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে দলটি। এর পাশাপাশি বামশাসিত রাজ্যের শাসকগোষ্ঠী কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে প্রচারে নেমেছে। গত রবিবার রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে তিনব্যাপী সত্যাগ্রহ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে সিপিএম।
রাজ্য পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন করে সিপিএমের পলিটব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে শুধু কেন্দ্রীয় সরকার নয় কেন্দ্রের অর্থ কমিশনও কেরলের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছে। তারা রাজ্যের প্রাপ্য কমিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে মোদী সরকার রাজ্যের প্রাপ্য কেন্দ্রীয় অর্থের পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দেওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যটি। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ অসম, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির সঙ্গে আগামী মার্চ-এপ্রিলে কেরলেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের মত আসন্ন ভোটেও ত্রিমুখী লড়াই হবে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া। ক্ষমতার পালাবদলের ঐতিহ্য ভেঙে ২০২১ এ দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় টিকে যায় সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। সেবারও বিজেপি বাম শাসিত রাজ্যটি দখলে মরণ কামড় দিয়েছিল। এবারও ত্রিমুখী লড়াইয়ে শাসক জোটের লাভ হতে পারে, মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
তবে সদ্য অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচনে বামেদের খারাপ ফল থেকে বাম বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। সেক্ষেত্রে পালাবদলের সুযোগ কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ নাকি বিজেপির পক্ষে যাবে তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। শশী তারুর এবং আরও কয়েকজন নেতাকে নিয়ে রাজ্য কংগ্রেসে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। এর সুবিধা পেতে পারি বিজেপি। প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর নরম করে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে বাম সরকারের তীব্র আক্রমণ নির্বাচনী কৌশল হতে পারে বলেও তাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।