কেরলের কংগ্রেস বিধায়ক (Congress MLA) রাহুল মামকূটাথিলের (Rahul Mamkootathil) বিরুদ্ধে গর্ভবতী মহিলাকে হুমকি, জোর করে গর্ভপাত করানো এবং একাধিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ।

রাহুল মামকূটাথিল।
শেষ আপডেট: 24 August 2025 09:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কে জর্জরিত কেরলের কংগ্রেস বিধায়ক রাহুল মামকূটাথিলের বিরুদ্ধে এবার আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠল। এক ভাইরাল অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, তিনি এক মহিলাকে জোর করে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন এবং 'রাগের মাথায়' মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া চার মিনিট ন’সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, প্রেগন্যান্ট হলে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ‘ধ্বংস হয়ে যাবে’। এক পর্যায়ে তিনি মহিলাকে সরাসরি হুমকি দেন, 'তোকে মারতে আমার কয়েক সেকেন্ড লাগবে।' দ্য ওয়াল অবশ্য এই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।
ওই অডিওয় শোনা যায়, প্রথমে ওই মহিলা অভিযুক্ত বিধায়ককে প্রশ্ন করেন, 'আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে সরিয়ে দেওয়ার মানে কী?' জবাবে মামকূটাথিল বলেন, 'এটা অনুমতির বিষয় নয়। তুমি জানো না পরিণতি কী হতে পারে। আমি রেগে গেলে কী হয়, তুমি জানো না।'
মহিলা বলেন, তিনি নিজের সন্তানকে একাই লালনপালন করতে পারবেন। তখন বিধায়ক উত্তর দেন, 'তুমি কী বলছো? তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছো!'
এই প্রথম নয়। এই অডিও ফাঁস হওয়ার আগে থেকেই বিধায়ক মামকূটাথিল একাধিক অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে। কয়েক দিন আগে মালয়ালি অভিনেত্রী রিনি জর্জ এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিন বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এই যুবনেতা। তারপর থেকে অশ্লীল বার্তা, হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দিতে থাকেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কংগ্রেস নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেয়নি।
এরপর লেখিকা হানি ভাস্করন ও ট্রান্স অ্যাক্টিভিস্ট আবন্তিকাও অভিযোগ করেন বিধায়কের অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে। আবন্তিকার কথায়, বিধায়ক তাঁর সঙ্গে সরাসরি ‘রেপ সেক্স’ নিয়ে কথাবার্তা বলেছিলেন।
এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একাধিক স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বিধায়ককে মহিলাদের একা থাকার সময়ে দেখা করতে যাওয়ার প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।
সব মিলিয়ে, চাপের মুখে মামকূটাথিল যুব কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। দাবি করেন, এটা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, দলের চাপ নয়। কিন্তু বিধানসভা সদস্যপদ ছাড়ার কোনও প্রশ্ন নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় বিজেপি ও সিপিআইএম-এর যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ইতিমধ্যেই পালাক্কাডে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস ইচ্ছে করে তাঁকে আড়াল করছে।
শুধু বিরোধীরা নয়, এই নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরেও ক্ষোভ বাড়ছে। বেশ কিছু প্রবীণ নেতা ও যুব কংগ্রেস কর্মীরা দলের নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিতর্ক দলের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে, বিশেষ করে আগামী স্থানীয় নির্বাচন ও বিধানসভা ভোটের আগে।
তবে অভিযু্ক্ত বিধায়ক মামকূটাথিল সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। যারা চাইছে, তারা ভুয়ো মামলা বানিয়ে আনুক। আমি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারব।' অভিযোগকারীরা এখনও আইনি মামলা দায়ের করেননি, এটিই তাঁর প্রধান যুক্তি।
তবে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। অডিও ক্লিপের পর নতুন করে বিতর্ক আরও উস্কে উঠেছে, কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।