গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষতের কারণে স্বাভাবিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে কোলস্টোমি অপারেশন করতে হয়েছে, অর্থাৎ অন্ত্র বাইরে এনে বিকল্প পথে মল-মূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রামপুর ধর্ষণ কাণ্ড।
শেষ আপডেট: 24 August 2025 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ও হয়তো নির্ভয়া নয়, কিন্তু ওর ক্ষত নির্ভয়ার চেয়ে কমও নয়!' কান্নায় ভেঙে পড়া এক মায়ের কণ্ঠস্বর কাঁপিয়ে দিল আদালত চত্বর। চার মাস আগে তাঁর ১১ বছরের মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী, মূক-বধির কন্যা পাশের গ্রামের এক যুবকের হাতে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। আজও মৃত্যু আর জীবনের সীমারেখায় দাঁড়িয়ে লড়ছে ছোট্ট সে মেয়ে।
ঘটনাটি ঘটে ১৫ এপ্রিল। সেদিন সন্ধ্যায় মাঠে বেরিয়ে আর ফেরেনি মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল সে, রক্তে ভেজা পোশাকে। শরীরের নানা জায়গায় এবং গোপনাঙ্গে ছিল গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধরা পড়ে নৃশংস ধর্ষণ। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে অভিযুক্তও, স্থানীয় যুবক দান সিং যাদব (২৮)। পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে পকসো আইনে মামলা রুজু করে। ফাঁসির দাবি তোলে পরিবার।
সেই বিচার শেষ হয় চার মাসের মধ্যে। ১১ আগস্ট রামপুর পকসো আদালত যাদবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৬ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা দেয়। বিচারক রামগোপাল সিং মন্তব্য করেন, 'প্রমাণ স্পষ্ট, ঘটনায় নির্মমতা অকল্পনীয়।' কিন্তু ধর্ষিতা নাবালিকার পরিবারের ক্ষোভ, 'ফাঁসিই চাই। যাবজ্জীবন যথেষ্ট নয়। ও বেঁচে থাকবে, অথচ আমার মেয়ের জীবন শেষ। এটা ন্যায় হতে পারে না।'
অন্য দিকে, মেয়েটির শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। মীরাটের লালা লাজপত রায় মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজে ১৪ দিন চিকিৎসার পর ডাক্তাররা জানান, গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষতের কারণে স্বাভাবিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে কোলস্টোমি অপারেশন করতে হয়েছে, অর্থাৎ অন্ত্র বাইরে এনে বিকল্প পথে মল-মূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখনও কমপক্ষে দু’টি বড় সার্জারির প্রয়োজন। যদিও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে নিয়মিত কোলস্টোমি ব্যাগ কেনাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, মেয়েটির মা কাপড় দিয়ে পেট বেঁধে রাখেন, তুলো দিয়ে পরিষ্কার করেন। রাত জেগে পাহারা দেন, যাতে ঘুমের মধ্যে মেয়েটি নিজের ক্ষত না নষ্ট করে।
এমনই পরিস্থিতিতে গ্রামের দুই কামরার কাঁচা বাড়িতে এখন কেবল কান্না আর আতঙ্ক। মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী বাবা উপার্জনে অক্ষম। মা দিনমজুরি করেন, মাঝেমধ্যে কাজ মিললেও সংসার চলে না। ভরসা মেয়েটির দাদার উপর। তিনি আগে হিমাচলে প্রসাধনী কারখানায় কাজ করতেন, কিন্তু বোনের এই ঘটনার পরে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, 'কাজকর্ম ছেড়ে থানায়, কোর্টে দৌড়েছি। এখন আবার নতুন করে কাজ খুঁজছি, কিন্তু বোনকে ছেড়ে বাইরে যেতে পারব না।' এসবের পাশাপাশি, গ্রামের মানুষজনের কটূক্তি ও কৌতূহলও তাঁদের একঘরে করেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ছাড়া তার জীবন রক্ষা কঠিন। আদালত জরিমানার ৬ লক্ষ টাকা ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, তা কবে হাতে আসবে, সে নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মেয়েটির পরিবারের কথায়, 'টাকা পেলেই হয়তো চিকিৎসা হবে। কিন্তু মেয়েটির শৈশব, ভবিষ্যৎ, হাসি— সব শেষ হয়ে গেল। এখন ন্যায় মানে কেবলই ফাঁসি।'