গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) সিরসা গ্রামের বিপিন স্ত্রী নিক্কিকে পুড়িয়ে হত্যা করেন (Nikki Murder)। পণের দাবি, নির্যাতন, ভিডিও প্রমাণ ও ভাইরাল পোস্ট (Dowry Death) ঘিরে চলছে তীব্র ক্ষোভ।

খুনের আগে পোস্ট বিপিনের।
শেষ আপডেট: 24 August 2025 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেটার নয়ডার সিরসা গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনায় তরুণী স্ত্রী নিক্কিকে পুড়িয়ে মারার (Nikki Murder Case) অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামী বিপিনকে। ২০১৬ সাল থেকে পণের দাবিতে নির্যাতনের শিকার ছিলেন নিক্কি ও তার দিদি কাঞ্চন— এমনই অভিযোগ উঠেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে। কাঞ্চনই ছিলেন নিক্কির বড় জা-ও। বিপিনের দাদার স্ত্রী।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিপিন নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন—“তুমি কেন আমায় বললে না? কেন আমায় ছেড়ে গেলে? কেন এমন করলে? দুনিয়া আমায় খুনি বলছে, নিক্কি।”
ওই পোস্টের পিছনে বাজছিল এক বিষণ্ন হিন্দি গান। পরের লাইনে আরও যোগ করেন, “তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে।” যেন নিক্কির 'আত্মহত্যা'য় ভেঙে পড়েছেন, এমনটাই বোঝাতে চান বিপিন।
আরেকটি পোস্টে বিপিন একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি, নিক্কি ও তাদের সন্তানকে একসঙ্গে হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে ক্যাপশনে লেখেন, “আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আমার কাছে কিছুই বাকি নেই।”
মনে করা হচ্ছে, এসব করে বিপিন আগেভাগে প্রমাণ করতে চেয়েছিল, 'আমি খুনি নই'। কিন্তু ঘটনার পরে যা যা তথ্যপ্রমাণ সামনে এসেছে, তাতে প্রায় গোটা ঘটনাই পুলিশের কাছে পরিষ্কার। নিক্কির হত্যার মামলায় বিপিন ছাড়াও তার বাবা-মা এবং ভাইয়ের নাম রয়েছে। বিপিন গ্রেফতার হলেও অন্য অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার নিক্কি অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিপিন ও তার পরিবারের এক মহিলা সদস্য তাকে নির্যাতন করছেন, চুল টানছেন, আঘাত করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে জ্বলতে থাকা অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে খুঁড়িয়ে নামছেন নিক্কি, পরে মেঝেতে বসে আছেন সারা শরীরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায়।
নিক্কির বড় জা কাঞ্চন জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের দু’জনকে পণের জন্য নির্যাতন করা হতো। তাদের শ্বশুরবাড়ির দাবি ছিল ৩৬ লাখ টাকা। কাঞ্চনের কথায়, “আমাদের প্রায়ই বলা হতো, বিয়েতে এই জিনিসটা পাওয়া যায়নি, ওইটা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেও আমায় ভোর চারটে পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। তারপর বিকেলে আমার চোখের সামনে আমার ছোট জাকে মারধর করে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি বাঁচানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পারিনি। অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।”
নিক্কির প্রত্যক্ষদর্শী ছেলেও একই দাবি করেছে। সে বলেছে, “মাম্মির ওপর তরল কিছু ঢেলে চড়-থাপ্পড় মেরে লাইটার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।”