এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন মহিলা অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সিঁড়ি থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নেমে আসছেন। আগুন নেভানোর জন্য আশেপাশের লোকেরাই তাঁর গায়ের জল ছোড়েন।

উত্তরপ্রদেশে খুন গৃহবধূ!
শেষ আপডেট: 24 August 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'প্রথমে মায়ের গায়ে কিছু একটা ঢালল, তারপর বাবা আর ঠাকুমা মিলে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল', নিজের মায়ের মৃত্যুর 'সাক্ষী' সন্তান। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida Dowry Murder) বাসিন্দা নিকিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামীকে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, মারধর করা হত। নিকির বড় দিদি কাঞ্চন, যাঁর বিয়েও একই পরিবারে হয়েছে, তাঁর দাবি, '৩৬ লক্ষ টাকা চেয়ে বোনকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় ওকে মেরে ফেলা হয়েছে।' তিনি বলেছেন, 'প্রাণপণ চেষ্টা করেও বোনকে বাঁচাতে পারিনি। আমি চাই ওরা যেমন আমার বোনকে কষ্ট দিয়েছে, তেমনই কষ্ট পাক।'
তাঁর আরও অভিযোগ, 'আমাদের ওপর নির্যাতন করা হয়। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বারবার বলেন যে বিয়ের সময় ৩৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়নি সেটা দিতে হবে। আমাকে বলা হত, একজনের পণ পেয়েছি, আরেকজনেরটা কী হবে? তোমাদের মরে যাওয়া উচিত। আমাদের ছেলেদের আবার বিয়ে দেব।'
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন মহিলা অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় সিঁড়ি থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নেমে আসছেন। আগুন নেভানোর জন্য আশেপাশের লোকেরাই তাঁর গায়ে জল ছোড়েন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নিকির স্বামী ও শাশুড়ি তাঁর চুল ধরে টানছে, মারধর করছে (UP woman Nikki Murder Case)।
প্রতিবেশীদের সাহায্যেই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। কয়েকঘণ্টা পরই মৃত্যু হয় তাঁর।
কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতে নিকির স্বামী বিপিনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত বাকিদের খোঁজ চলছে। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিপুল সংখ্যক মানুষ থানার বাইরে ভিড় করেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা, 'জাস্টিস ফর নিকি।'