দুর্গোৎসবের আবহে বর্ষার শেষ ঝলক নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের মিশেল - অভয়ারণ্যে এ নিঃসন্দেহে পর্যটকদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 September 2025 22:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল্পনা একটা ছিল বটে, কিন্তু এবার তাতে শিলমোহর পড়ল। দুর্গাপুজো (Durgapuja 2025) উপলক্ষে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে যাচ্ছে অসমের কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভের (Kaziranga Natuional park and Tiger reserve) দরজা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাগোরি রেঞ্জ (Bagori Range) (লিমিটেড সার্কিট) ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যাবে, এই খবর নিশ্চিত করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Assam Chief minister Himanta Biswa sharma)।
এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, কোহরা রেঞ্জ (Kohora Range) (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) খুলবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। বহু প্রতীক্ষিত হাতি সাফারিও (Elephant Safari) শুরু হতে চলেছে ১ নভেম্বর থেকে।
In order to enhance your Puja celebration experience, we are pleased to announce the opening of the Bagori Range (Limited Circuit) of Kaziranga National Park and Tiger Reserve from 26th September 2025.
•Kohora Range (Central Range): Likely to open in the 2nd week of October…— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) September 24, 2025
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান অসমের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্র নদীর বন্যাপ্রবাহ বিস্তৃত সমতল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অগণিত পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসভূমি এই পার্ক। এখানেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের আবাস, সঙ্গে বাঘ, হাতি, সোয়াম্প ডিয়ার এবং ৫০০-রও বেশি প্রজাতির পাখি।
বর্ষাকালে দেশের সব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কয়েক মাসের জন্য বন্ধ থাকে। এর মুখ্য উদ্দেশ্য প্রাণীদের প্রজনন মরশুমে প্রাণীদের নিশ্চিন্তে শাবক বড় করার সুযোগ দেওয়া। পাশাপাশি গরমকালের দাবদাহ শেষে বর্ষার জলে বাস্তুতন্ত্রকে নতুন করে নিজের ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সময় দেওয়া অন্যতম কারণ। সেই নিয়ম মেনেই প্রতিবছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকে অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।
তবে ২০২৫ সালে এই নিয়ম ভাঙতে চলেছে কাজিরাঙা। দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই মানুষের পা পড়বে জাতীয় উদ্যানে। উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় টানতেই এই পদক্ষেপ। আগেই কাজিরাঙা নিয়ে সুখবর ঘোষণা করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর এক্স পোস্টে তাতে সরকারি ছাপ পড়ল।
অতএব, দুর্গাপুজোয় প্রকৃতির কোলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুলে যাচ্ছে গন্ডাররাজ্য। দুর্গোৎসবের আবহে বর্ষার শেষ ঝলক নিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের মিশেল - অভয়ারণ্যে এ নিঃসন্দেহে পর্যটকদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।
তবে এখানেই থেকে যাচ্ছে, বেশ কিছু প্রশ্নও।
নর্থইস্ট লাইভ-এর ২০২৫ সালের মার্চ মাসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২০২৪–২৫ মরশুমের শেষ পাঁচ মাসে কাজিরাঙায় পর্যটকের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
পর্যটকদের অনুপস্থিতি উদ্যানের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে প্রাণীদের প্রজননচক্র ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আবাসস্থল পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যদিও এই ভিড় স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে, তবে এর পরিবেশগত প্রভাব ভয়াবহ। প্রচুর গাড়ি চলাচল আর মানুষের উপস্থিতি উদ্যানের সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট করছে। ফলে বন্যপ্রাণীদের নিশ্চিন্তে চলাফেরার এলাকা কমে আসছে, পাখিদের বাসা বাঁধা ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন জন্ম নেওয়া প্রাণীদের বেড়ে ওঠায় বাধা আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন, সংরক্ষিত এলাকার সংবেদনশীল আবাসস্থল নিয়ে পর্যাপ্ত সতর্কতা না নিলে বন্যপ্রাণের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষের তরফে উদ্যোগ নিয়ে পার্কে প্রবেশের আগে সঠিকভাবে ভূপ্রকৃতি, নিরাপত্তা নীতি এবং সম্ভাব্য প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে পর্যটকদের ভালভাবে বোঝানো উচিত।
কাজিরাঙার অন্যতম বড় সমস্যা শুধু পর্যটনের চাপই নয়, সঙ্গে রয়েছে বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল হারানো, বন্যার ফলে পলি জমা এবং হাইওয়ের দূষণ। এসব মিলিয়ে জাতীয় উদ্যানের ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।